• ১২০ টাকার জরিমানা ‘মকুব’ ১০ টাকায়, নিষিদ্ধ ভ্যানকে অবাধ ছাড়পত্র ব্র্যাবোর্ন রোডে
    বর্তমান | ২৪ জুলাই ২০২৪
  • স্বার্ণিক দাস, কলকাতা : লালবাজার। কলকাতা পুলিসের সদর দপ্তর। ঠিক তার পিছনেই ব্যবসায়িক এলাকা। নানা সামগ্রী বহন লেগেই থাকে। সেইসঙ্গে ভ্যান রিকশর যাতায়াত। লালবাজারের পিছনের রাস্তা থেকে বেরিয়ে ব্র্যাবোর্ন রোড ধরে  গন্তব্য টি বোর্ডের দিকে। তবে রাধাবাজার লেন ও ব্র্যাবোর্ন রোডের সংযোগস্থলে একবার ‘হল্ট’ দিতে বাধ্য সব ভ্যান চালক। সেখানেই চলছে ট্রাফিক বিধিভঙ্গের নির্ধারিত জরিমানা ‘মকুব’-এর কর্মকাণ্ড। কলকাতা ট্রাফিক পুলিসের নিয়ম অনুযায়ী, ব্র্যাবোর্ন রোডে ভ্যান চলা নিষিদ্ধ। অমান্য করলে জরিমানা ১২০ টাকা। তবে মাত্র ১০ টাকার নোটেই সেই জরিমানা দিনের পর দিন ‘মকুব’ হচ্ছে ভ্যান চালকদের। সবটাই হচ্ছে কলকাতা পুলিসের মদতে। যিনি টাকা নিচ্ছেন তিনি হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ডের সিভিক ভলান্টিয়ার। 


    বেআইনিভাবে টাকা তোলা নিয়ে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বাস্তব চিত্র যে বদলায়নি, তার প্রমাণ মিলছে লালবাজার থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে। ভ্যান চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, এই ‘প্রথা’ দীর্ঘদিনের। তাঁরা জানাচ্ছেন, আগে রাধাবাজার লেন থেকে বেরিয়ে ব্র্যাবোর্ন রোডে ভ্যান চালাতে গেলে দিতে হতো ৫ টাকা। বছর খানেক আগে রেট বেড়ে হয় দ্বিগুণ। চালকদের অভিযোগ, প্রতিটি ভ্যানে রেজিস্ট্রেশন নম্বর আছে। ১০ টাকা না দিলে বা পালিয়ে গেলে লাভ নেই। সেই নম্বরের ভিত্তিতে ট্রাফিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে ১২০ টাকা জরিমানা করবেন হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ডের অফিসাররা। 


    কীভাবে চলছে টাকা তোলা? তারও আবার শিফট রয়েছে। সকাল ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত থাকেন এক ব্যক্তি। তবে সাদা পোশাকে। তিনি সকালের ‘জরিমানা মকুব’ পর্ব সামলান। আবার ১২টা থেকে আসেন হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ডের সিভিক ভলান্টিয়ার আলিবাবু। কারও কাছে যেতে হয় না আলিবাবুকে। ভ্যান চালকরাই নিজ উদ্যোগে লুঙ্গির কোঁচা কিংবা প্যান্টের পকেট থেকে ১০ টাকার নোট বের করে প্রকাশ্যেই গুঁজে দেন আলিবাবুর হাতে। এই দৃশ্য দেখে আলিবাবুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তিনি হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ডের একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। আলিবাবু নিজেই বললেন, ‘গার্ডের অফিসাররা সবাই সব জানেন।’ তাঁদের নির্দেশেই গোটা প্রক্রিয়া। সারাদিনে ২০০ থেকে ৩০০ ভ্যান থেকে চলে টাকা আদায়। যা থেকে ‘রোজগার’-এর হিসেব একেবারে স্পষ্ট। দিন শেষে সেই ‘প্রাপ্তির ভাণ্ডার’ জমা পড়ে হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ডে। তারপরই ছুটি সিভিক ভলান্টিয়ারের। কলকাতা পুলিসের ডিসি (ট্রাফিক) শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও জানালেন, ‘এরকম কোনও অভিযোগ আমার কাছে আগে আসেনি।’ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। 
  • Link to this news (বর্তমান)