দমদম লোকসভা: অভিষেকের হুঁশিয়ারিতে এলাকায় ঘুম ছুটেছে বহু নেতার, দলে গুঞ্জন
বর্তমান | ২৪ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে দলের নেতা-কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরও একধাপ এগিয়ে তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুরসভা ও পঞ্চায়েতের হেরে যাওয়া এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘তিন মাসের মধ্যে পদক্ষেপ দেখতে পাবেন।’ তারপর থেকে দমদম লোকসভাজুড়ে শাসক দলের অন্দরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দলের অন্দরে জোর গুঞ্জন, যদি সত্যিই ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাহলে কারা কারা কোপে পড়বেন। যেসব বড় নেতার ওয়ার্ডে দলের মুখ পুড়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে সত্যিই দল কোনও পদক্ষেপ নেবে কি না, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন শাসক দলের নেতা-কর্মীরা। বহু নেতার তো রাত ঘুমই উড়ে গিয়েছে। কতটা কোপ পড়বে, তাই নিয়ে দলের মধ্যেই কানাকানি চলছে। যদিও শাসক দলের একাধিক হেভিওয়েট নেতার দাবি, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই দল পদক্ষেপ নেবে। সেক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে অবাঙালি ভোটার ও বহুতলের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে। অপর অংশ অবশ্য এই যুক্তি ধর্তব্যের মধ্যে আনছে না।
২১ জুলাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘গত দেড় মাস লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করেছি। তিন মাসের মধ্যে ওই ফলাফল দেখতে পাবেন। কাউন্সিলার ও পঞ্চায়েত ভোটে জিতব। কিন্তু বিধানসভা ও লোকসভায় দল প্রত্যাশিত ফল করবে না, সেটা চলবে না। দল আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’ এরপর শাসক দলের অন্দরে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দমদম লোকসভা এলাকার বিভিন্ন পুরসভার ফলাফল সন্তোষজনক নয়। দমদম পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১টিতে হেরেছে শাসক দল। তারমধ্যে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডও রয়েছে। দক্ষিণ দমদমের পাঁচটি ওয়ার্ডে শাসক দল পিছিয়ে। বরানগর পুরসভার ছয়টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে তৃণমূল। তারমধ্যে ভাইস চেয়ারম্যানের ওয়ার্ড রয়েছে। চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডে লোকসভা ভোটে লিড থাকলেও বিধানসভার উপনির্বাচনের ফলাফলে পিছিয়ে রয়েছে। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যানের ওয়ার্ড সহ ন’টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে শাসক দল। পানিহাটি পুরসভার পাঁচটি ওয়ার্ডেও শাসক দল হেরেছে। খড়দহ পুরসভার চেয়ারম্যান নিজের ওয়ার্ডে পরাজিত হয়েছেন। এই পুরসভার মোট ৯টি ওয়ার্ডে তৃণমূল পিছিয়ে রয়েছে। এছাড়া বিলকান্দা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল ১ হাজার ৯৩৫ ভোটে পিছিয়ে। উত্তর দমদমের ১৩টি ওয়ার্ড ও নিউ বারাকপুরে ছ’টি ওয়ার্ডে শাসক দল পিছিয়ে। তবে এই পিছিয়ে থাকার পরিসংখ্যান নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির ভোট প্রাপ্তির নিরিখে। সিপিএম ও বিজেপির প্রাপ্ত ভোট যোগ হলে প্রতিটি পুরসভার বেশিরভাগ ওয়ার্ডে বিপুল ভোটে পিছিয়ে পড়বে শাসক শিবির। এসব বিষয় নিয়ে দলের বিভিন্ন অফিস ও চায়ের দোকানে জোর চর্চা চললেও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না কেউই।