নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ন্যুড ভিডিও কল। রিসিভ করলেই সুপার ইম্পোজের মাধ্যমে তৈরি করা হতো পর্ন ভিডিও। তা দিয়েই শুরু হতো ব্ল্যাকমেল। টাকা আদায়। রাজারহাটে এমনই সেক্সটরশন চক্রের হদিশ পায় পুলিস। চক্রের পান্ডা ইমরান সহ গ্রেপ্তার হয়েছিল চার তরুণী। তদন্তে নেমে রবিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও দুই মহিলাকে। পুলিসের দাবি, তারা দু’জনেই ইমরানের স্ত্রী! একজনের নাম মৌসুমী, অন্যজনের নাম মধুশ্রী। এই চক্রের সঙ্গে তারা প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। বাইরে থেকে তরুণী জোগাড় করা, তাদের পরিচালনা করা, ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় সহ যাবতীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করত দুই স্ত্রী। রাজারহাটের যে বিলাসবহুল তিনতলা বাড়িতে চক্র চলছিল, সেখান থেকে আড়াইশোর বেশি সিমকার্ড, প্রচুর ডেবিটকার্ড, মোবাইল, ওয়াকটকি সহ নানা ধরনের জিনিসপত্র উদ্ধার হয়েছে। যেগুলি অপরাধে ব্যবহার করা হতো।
সেক্সটরশনের ফাঁদ দেশে নতুন নয়। প্রায় তিনবছর ধরে এই ধরনের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করছে একদল দুষ্কৃতী। তবে, আগে বাইরের রাজ্য থেকেই চক্র চলত। বছর আড়াই আগে রাজস্থানের ভরতপুরে এই ধরনের একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছিল পুলিস। কিন্তু, খোদ কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় এই চক্র চলছিল, তা গোপনেই ছিল। কিছুদিন আগে এবিষয়ে পুলিসের কাছে খবর আসে। তারপরই ১৯ জুলাই রাতে পুলিস রাজারহাটের মানিকতলায় অভিযান চালায়। সেখানে একটি বিলাসবহুল তিনতলা বাড়ির ভিতরই সেক্সটরশন চক্রটি ডেরা বেঁধেছিল। সেই মতো বাড়ির অন্দরসজ্জাও তৈরি করা হয়েছিল। ওই দিনই পুলিস ইমরান তরফদার নামে এক যুবক এবং চারজন তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে চক্রটি চালাত মূলত ইমরান। ধৃত তরুণীরা সেক্সটরশন চক্রে গ্রাহকদের ভিডিও কল করত। তারপর জালে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল করে মোটা টাকা আদায় করা হতো। এরকম বেশ কিছু অভিযোগ পায় পুলিস। তদন্তে নেমে তারা ইমরানের দুই স্ত্রীর খোঁজ পায়। রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে একজনকে রাজারহাট থেকে এবং অন্যজনকে ইকোপার্ক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস জানিয়েছে, ইমরানের দুই বউ পুরো চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করত। তাই কতদিন ধরে চক্র চলছিল, কতজন তরুণী কাজ করত, কত টাকা প্রতারণা হয়েছে, এই সমস্ত তথ্য সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল।
তরুণীরা প্রথমে ফেসবুকে যোগাযোগ করে নম্বর নিয়ে ভিডিও কল করত। এই কাজের জন্য যে সিমকার্ডগুলি ব্যবহার হতো, সেরকম ২৫২টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। ৩২টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ভিডিও কলের জন্য একটি ক্যামেরা স্ট্যান্ড পাওয়া গিয়েছে। বিভিন্ন ব্যাঙ্কের ৪৭টি ডেবিট কার্ড, ১৭টি পাসবই, ১৭টি ওয়াকিটকিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলি তিনতলার বিভিন্ন ফ্লোরে ব্যবহার হতো। পুলিস জানিয়েছে, দুই স্ত্রীকে ইমরান এক জায়গায় রাখত না। দু’টি পৃথক ঠিকানায় রাখত। সেখান থেকেই তারা চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করত।