• এবার বাংলা-বিহারের পাঁচ জেলা নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দাবি, বঙ্গভঙ্গের তোড়জোড় মোদির?
    বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লোকসভা ভোটে বাংলায় বিজেপির ভরাডুবির পর প্রথমে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে উত্তরবঙ্গকে যুক্ত করার আর্জি। তারপর গ্রেটার কোচবিহার রাজ্যের জন্য সওয়াল। আর এবার সরাসরি লোকসভায় বাংলা-বিহারের মুসলিম প্রভাবিত পাঁচটি জেলা নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই তিন ঘটনায় একটা বিষয় স্পষ্ট—তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেই বঙ্গভঙ্গের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। বুধবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে উত্তরবঙ্গকে নিজের উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে আনার প্রস্তাব দেন কেন্দ্রের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতে বৃহস্পতিবার বঙ্গ বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ দাবি করলেন, ‘পৃথক গ্রেটার কোচবিহার রাজ্য চাই।’ যদিও তাঁদের ছাপিয়ে গিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার বিজেপি এমপি নিশিকান্ত দুবে। এদিন লোকসভার জিরো আওয়ারে স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, ‘বাংলার মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বিহারের কিষাণগঞ্জ, আরারিয়া এবং কাটিহার জেলা নিয়ে হোক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। নইলে হিন্দু আর থাকবে না।’ ওই পাঁচ জেলায় এনআরসির দাবিও তুলেছেন নিশিকান্ত। বিজেপি মন্ত্রী-সাংসদদের এহেন তৎপরতায় নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের বিরুদ্ধে বাংলা ভাগের চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। দলের বর্ষীয়ান এমপি সৌগত রায় বলেন, ‘এব্যাপারে সংসদে সোচ্চার হব আমরা। কোনওভাবেই বিজেপির ষড়যন্ত্র কার্যকর হতে দেব না।’ 


    বিজেপির বিরুদ্ধে বঙ্গভঙ্গে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও বাংলায় তাঁদের এমপিরা নানা কারণ দেখিয়ে এই ইস্যুতে সরব হয়েছে। কিন্তু নিশিকান্তর বক্তব্য তাঁদের থেকে আলাদা। গত লোকসভা থেকে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বহিষ্কারের অন্যতম নেপথ্যনায়ক তিনি। মহুয়ার বিরুদ্ধে ‘অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন’ করার অভিযোগ তুলেছিলেন। এদিন তিনি আরও খুল্লমখুল্লা ভাষায় বঙ্গভঙ্গের সওয়াল করেছেন। নিশিকান্ত বলেন, সাঁওতাল পরগনার জনবিন্যাসের চরিত্র বদলে যাচ্ছে। আগে ওখানে ৩৬ শতাংশ আদিবাসী ছিল। কিন্তু এখন তা কমে ২৬ শতাংশ। এর কারণ হিসেবে তাঁর দাবি, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মুসলমানরা ওই এলাকায় এসে আদিবাসী মহিলাদের বিয়ে করছে। সেই কারণে এলাকায় মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে। ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির জন্যই এমনটা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। 


    এখানেই থামেননি এই বিজেপি এমপি। টেনে এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রসঙ্গ। নিশিকান্ত বলেন, ‘পাকুড় এলাকায় মালদা, মুর্শিদাবাদ থেকে এসে হিন্দুদের উপর জুলুম করছে। পশ্চিমবঙ্গের পুলিস এসে ধমকাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ বা ঝাড়খণ্ড, কোনও সরকারই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’ এব্যাপারে ভুল প্রমাণ হলে সাংসদ পদ ছেড়ে দেবেন বলেও চ্যালেঞ্জ ছো঩ড়েন তিনি। তারপরই সরাসরি রাখেন নিজের দাবি, ‘অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চাই। ওখানে এনআরসি হোক। বাংলার মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বিহারের কিষাণগঞ্জ, আরারিয়া এবং কাটিহার জেলা নিয়ে হোক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। তা নাহলে হিন্দু আর থাকবে না। ধর্মান্তরকরণ এবং বিবাহের ক্ষেত্রে অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হোক।’


    পিছিয়ে ছিলেন না অনন্ত মহারাজও। তিনি বলেন, পৃথক গ্রেটার কোচবিহার রাজ্য চাই। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে দশ মিনিটেই তা করে দিতে পারে। কোচবিহারকে জবরদস্তি পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে জুড়ে রাখা হয়েছে। এলাকার মানুষ আলাদা রাজ্যের পক্ষপাতী। তাঁদের মতকে প্রাধান্য দিতে হবে। নাহলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এই ইস্যুতে সুকান্ত-অনন্তকে কার্যত সমর্থন করেছেন জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়। তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘বারবার বঞ্চনার শিকার হতে হতে উত্তরবঙ্গের মানুষ এখন এটাই চায়। রাজ্য সরকার যদি উন্নয়ন করতে না পারে, তাহলে উত্তরবঙ্গের দায়িত্ব ছেড়ে দিক।’ যদিও রাজ্যসভার আর এক বিজেপি এমপি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, দল এসব দাবি সমর্থন করে না।
  • Link to this news (বর্তমান)