• রানিগঞ্জ ডাকাতি কাণ্ডে নয়া মোড়: বিহারের একদা ত্রাস শাহাবুদ্দিনের ঘরেই সিআইডি অভিযান
    বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রানিগঞ্জে সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনার তদন্তে এবার বিহারের একদা ত্রাস মহম্মদ শাহাবুদ্দিন ওরফে সাহিবের বাড়িতে পৌঁছে গেল আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিস। বুধবার দিনভর অভিযান চলল সিওয়ানের প্রাক্তন আরজেডি এমপি ‘গ্যাংস্টার’ শাহাবুদ্দিনের ছেলে ওসামা সাহিবের ‘নয়ি কিলা’তে (বাড়ি)। অভিযোগ, লুটের সোনা ও হিরে লুকিয়ে রাখা রয়েছে এই বাড়িতেই। শাহাবুদ্দিনের ছেলে ওসামার গাড়ির চালক ইমাম সুব্বানই লুটের সম্পত্তি লুকিয়েছে। সে নিজেও গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে সেখানে—এই খবর পৌঁছেছিল বাংলার পুলিসের কাছে। তারই সূত্র ধরে বিহার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে এদিনের অভিযান। 


    ২০২১’এর এপ্রিল মাসের শেষে তিহার জেলে বন্দি শাহাবুদ্দিন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও, তাঁর গ্যাং সমানভাবে সক্রিয়। সামলাচ্ছে তাঁর ছেলে ‘ছোটা সাহিব’ ওসামা। জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি চন্দ্রশেখরের খুন সহ ৩৬টি মামলায় জড়িত শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে রেইডে গিয়ে একে সিরিজ রাইফেল, হ্যান্ড গ্রেনেড, লেজার গাইডেড গান সহ মারাত্মক সব আগ্নেয়াস্ত্রধারীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছিল পুলিস। ২০০১ সালের ১৫ মার্চ দুই পুলিসকর্মী সহ মোট ১৩ জন মারা গিয়েছিল ১০ ঘণ্টার সেই গুলিযুদ্ধে। ২৩ বছর পর সেই সিওয়ানে ছোটা সাহিবের ডেরায় অভিযানে যাওয়ার জন্য তাই ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ রেখেছিল আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট এবং বিহার পুলিসের যৌথ বাহিনী। অভিযানের আগাম খবর পেয়ে তোড়জোড় ছিল ওসামা অনুগামীদেরও। তবে একে ৪৭ আর ৫৬ ধারী শান্তিরক্ষকদের বিশাল বাহিনী দেখার পর আর প্রতিরোধের চেষ্টা হয়নি। অভিযান পর্বে শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী হিনা সাহিব বাড়িতে ছিলেন না। রাজনৈতিক কারবারিরা জানেন, বিগত দু’টি ভোটে (২০১৪ ও ১৯) সিয়ানে আরজেডির টিকিট পেলেও, এবার লোকসভা নির্বাচনে নির্দল হয়ে লড়ে প্রায় তিন লক্ষ ভোট কেটেছেন হিনা। আর বিহারের শাসক দল জেডিইউয়ের জয় নিশ্চিত করে দিয়েছেন। সিওয়ানের পুলিস সুপার অমিতেশ কুমার বলেন, তাঁর ছেলে ওসামা বাড়িতে থাকলেও পুলিসের সঙ্গে অসহযোগিতা করেনি। তবে ওই বাড়ি থেকে ইমরানকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মেলেনি কোনও গয়নাও। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গত ৯ জুন রানিগঞ্জের এসএনবি রোডের একটি স্বর্ণ বিপণিতে ডাকাতি করে জুয়েল থিফ সুবোধ সিংয়ের গ্যাং। পুলিস জানতে পারে, ডাকাতির ঘটনার নেতৃত্বে ছিল সিওয়ানের সোনু গুপ্তা। লুটের সামগ্রী নিরাপদে পাচারের দায়িত্ব ছিল খালিদের। অঙ্কে অনার্স গ্র্যাজুয়েট খালিদ একাধিক ডাকাতির ঘটনায় যুক্ত থাকলেও তার হদিশ পায়নি পুলিস। খালিদকে পরে উত্তরপ্রদেশের নয়ডা থেকে গ্রেপ্তার করে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিস। অঙ্কে অনার্স খালিদকে জেরায় পুলিস জানতে পারে, ডাকাতির মাল সে শাহাবুদ্দিনের ছেলের গাড়ি চালক সুব্বানের হাতে তুলে দিয়েছিল। ‘নয়ি কিলা’তে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে সে।
  • Link to this news (বর্তমান)