উপযুক্ত কারণ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বাস্তবে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ
বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোনও ব্যক্তির বা মহিলার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার জন্য উপযুক্ত কারণ প্রয়োজন। যথাযথ কারণ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার অর্থ হল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা মহিলার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা। বৃহস্পতিবার এমনই পর্যবেক্ষণসহ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা খারিজ করে দিল হাইকোর্ট।
একটি মামলায় ঝাড়গ্রাম আদালত থেকে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। এদিন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ যাবতীয় প্রেক্ষিত খতিয়ে দেখার পর নিম্ন আদালতের বিচারকের ওই নির্দেশ অযৌক্তিক জানিয়ে তা খারিজ করে দিয়েছেন।
২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর ঝাড়গ্রাম থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় ঝাড়গ্রাম আদালত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অভিযোগ, থানায় যে এফআইআর দায়ের হয়েছিল, তাতে প্রথমে ওই ব্যক্তির নাম ছিল না। পরে সেখানে তাঁর নাম যোগ করে তাঁর বিরুদ্ধে বেশকিছু জামিনযোগ্য কিছু ধারা যোগ করা হয়। ২০২১ সালে পুলিসের পেশ করা চার্জশিটেও ওই ব্যক্তির নাম ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয় নিম্ন আদালত।
শুনানি চলাকালীন পর্যবেক্ষণে বিচারপতি জানান, উপযুক্ত কারণ ছাড়া জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা মানে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। এমনকী, এক্ষেত্রে গ্রেপ্তারি বা কারাদণ্ডের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার খর্ব করা। এক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের বিচারক নিজের বিচারবুদ্ধির প্রয়োগ করেননি বলেও মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি, কোন ক্ষেত্রে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যেতে পারে, তাও জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি। তিনি জানান, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হলে কিংবা তাঁকে সমন পাঠানো হলে, যদি তিনি তাতে বারবার কোনও জবাব না দেন, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করানোর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যেতে পারে।