লোকসভা ভোটে পিছিয়ে থাকা ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলাররা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুুশ্চিন্তায়
বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: ২১ জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূলের সমাবেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণায় বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা বিভিন্ন পুরসভার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার এবং পঞ্চায়েত সদস্যদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ও পঞ্চায়েতের বুথে তৃণমূল জিততে পারেনি। তাঁরা ভবিষ্যতে টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ের মধ্যে রয়েছেন।
গত লোকসভা ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, ভাটপাড়া, টিটাগড় পুরসভায় পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। অন্যান্য পুরসভাতেও বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে পরাজিত হয়েছে ঘাসফুল শিবির। বারাকপুর সংসদীয় কেন্দ্রের মধ্যে ২০৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। তার মধ্যে ৬৯টিতে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এইসব ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলাররা আগামী দিনে আর টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। শিল্পাঞ্চলের প্রতিটি পুরসভাতেই এনিয়ে জোর জল্পনা চলছে।
টিটাগড় পুরসভায় চেয়ারম্যান কমলেশ সাউয়ের নিজের ওয়ার্ডেই পিছিয়ে পড়েছে শাসকদল। সব মিলিয়ে ১৫টি ওয়ার্ড গিয়েছে বিজেপির দখলে। ভাটপাড়ার ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টিতে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি, তৃণমূল এগিয়ে ১৭টিতে। এই পুরসভায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডে তৃণমূল হেরেছে। মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি এগিয়ে গিয়েছে। আশানুরূপ ফল হয়নি মামুদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতেও। আমডাঙার ২১টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে দু’টিতে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল।
বিজেপির হাত থেকে বারাকপুর আসনটি তৃণমূল ছিনিয়ে নিলেও কয়েকটি ওয়ার্ডের ফলাফল শাসকদলের কাছে হতাশাব্যঞ্জক। সাংসদ পার্থ ভৌমিক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২৬ সালে যদি ফলাফল ভালো না হয়, তাহলে পিছিয়ে থাকা এলাকার কাউন্সিলার ও পঞ্চায়েত সদস্যরা যেন প্রার্থী হওয়ার আশা না করেন। এখন দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে পরাজিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ও পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, লোকসভা ভোটের সঙ্গে বিধানসভা বা পুরসভা ভোটের বিস্তর ফারাক রয়েছে। আগামী ভোটে এই ফলাফল হবে না।