• রাজ্যের ক্ষতি কয়েকশো কোটি, লিজ হোল্ড জমির  মালিকানা পাইয়ে দিতে চক্র দপ্তরেই
    বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘লিজে’ পাওয়া জমি রেয়াতি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন করার কারবার। আর সেই চক্র রমরমিয়ে চলছে রাজ্যেরই কর্মী-অফিসার মহলে। ভূমি-ভূমি সংস্কার দপ্তরের সরকারি তথ্য ভাণ্ডারে ঢুকে ‘লিজ হোল্ড’ জমিকে ‘ফ্রি হোল্ড’ বানিয়ে দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মী-আধিকারিকদের একাংশ জড়িত বলে অভিযোগ। এই ‘দুর্নীতি’তে অসাধু ওই চক্রের মুঠো গরম হলেও, চিরতরে শেষ হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা। ইতিমধ্যেই এহেন ‘জমি ডাকাতি’র তথ্য সহ চিঠি পৌঁছেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বিবেক কুমারের কাছে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ জুলাই এই অভিযোগ জমা পড়েছে। 


    নরেন্দ্র মোদি সরকারের নানা আর্থিক বৈষম্য এবং বঞ্চনার জেরে বাংলার কোষাগারের উপর চাপ অনেকটাই বেড়েছে। বিকল্প নানা সংস্কারের মধ্যে দিয়ে নিজস্ব তহবিল বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে নবান্ন। এরকম একটা পর্বে যে সমস্ত জমি লিজ হোল্ডে দেওয়া রয়েছে, তার ‘ফ্রি হোল্ড’ বা মালিকানাসত্ত্ব দেওয়া শুরু করেছে রাজ্য। এর জেরে বাড়তি রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা। তবে ফ্রি হোল্ড পেতে মেনে চলতে হবে সরকারি বেশ কিছু শর্ত। কিন্তু ‘অসাধু চক্রের’ হাত ধরে সে সব শর্ত না মেনেই লিজ জমি ফ্রি হোল্ড করার কাজ চলছে। পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে এহেন বেআইনি কাজকর্মের অভিযোগ আসতে শুরু করায়, ‘ছানবিন’ শুরু করেছে ভূমিদপ্তর। প্রশাসনিক বৈঠকে জমি কেলেঙ্কারি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্ষের মধ্যে ভূত খোঁজার নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গেই ‘বাস্তুঘুঘু’দের বাসা ভাঙার নিদানও দিয়েছেন তিনি। সেই নির্দেশের পরই জমি সংক্রান্ত তথ্য বদলে দেওয়ার অভিযোগ আসতে শুরু করেছে নবান্নে। সূত্রের খবর, গত ২২ জুলাই যে অভিযোগপত্র মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা পড়েছে, তাও হিমশৈলের চূড়া মাত্র! 


    ওই অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পশ্চিম বর্ধমানের ফরিদপুর-দুর্গাপুর ব্লকের যমুনা মৌজায় ১.২৮ একর লিজ জমির তথ্য বদল করা হয়েছে। জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি জমিটি ছিল ‘লিজ হোল্ড’, কিন্তু সরকারের তথ্য ভাণ্ডারে চরিত্র পাল্টে গিয়েছে গত ৩ মে। জমিটির পাশে ‘লিজি’ শব্দটি আর নেই। কোনও একজন রাতারাতি ওই জমির মালিক হয়ে গিয়েছেন এবং সেখানে তিনি যা খুশি তাই করতে পারবেন। একই সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরে বাহারবাড়ুয়া মৌজায় বর্গা জমির তথ্য উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগও জমা পড়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্যের ই-ভূচিত্র পোর্টালে ঢুকে কোন আধিকারিক তথ্য বদল করলেন, তা সহজেই ধরা যায়। অনেকের মতে, এই ক্ষেত্রে সরাসরি আঙুল উঠতে পারে ভূমি সংক্রান্ত তথ্য সামলানোর দায়িত্বে থাকা আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ের ডিরেক্টরেট অব ল্যান্ড রেকর্ডস অ্যান্ড সার্ভে অফিসের দিকে। প্রশাসনের শীর্ষ মহল তাই নড়েচড়ে বসেছে। অভিযোগ যখন হয়েছে, তার সারবত্তা কিছুটা থাকবেই। আর সরকারি দপ্তরগুলি একটা বিষয়ে নিশ্চিত, দোষ প্রমাণ হাতে এলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেয়াত করবেন না।
  • Link to this news (বর্তমান)