পৌনে ২ লক্ষ টেট সার্টিফিকেটের ডেটা কোথায়? পর্ষদের জবাব তলব কোর্টের
বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১৪ সালের টেটের ১ লক্ষ ৭৫ হাজার বা পৌনে ২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর টেট সার্টিফিকেট সংবলিত ডেটা গেল কোথায়? এবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে এই তথ্য জানতে চাইল হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের টেটে উত্তীর্ণ হওয়ার পর নিয়োগ পেলেও টেট উত্তীর্ণ হওয়ার শংসাপত্র বা টেট পাশ সার্টিফিকেট পাননি বহু শিক্ষক। এই কারণে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মামুন রেজা-সহ বেশকিছু কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষক। তাঁদের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্তের দাবি ছিল, মামলাকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম টেট উত্তীর্ণ হওয়ার শংসাপত্র। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে আবেদন জানিয়েও এখনও ওই সার্টিফিকেট মেলেনি।
এই দাবির প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, টেট সার্টিফিকেট প্রদানের জন্য সাড়ে ন’মাস আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল। আবেদন নেওয়া হয়েছিল ৩০ মে, ২০২২ থেকে ১৬ মার্চ, ২০২৩ পর্যন্ত। ওইবছর নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কোনও তথ্যই বর্তমানে পর্ষদের কাছে নেই। ওইবছর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওএমআর যাচাই-সহ সমস্ত তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এস বসু রায় নামে একটি কোম্পানিকে। কোম্পানির কর্মকর্তারা বর্তমানে সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন। পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে যাবতীয় তথ্য সিবিআই সিজ করেছে। ফলে পর্ষদের কাছে এখন আর কিছু নেই। এরপরই ওই মামলায় সিবিআইকে পক্ষভুক্ত করার নির্দেশ দেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
এদিন সিবিআইয়ের আইনজীবী জানান, পর্ষদ বলছে কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই। কিন্তু ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৭০৩ জন পরীক্ষার্থীর টেট সার্টিফিকেটের ডেটাসহ দুটি সিডি পর্ষদকে পাঠিয়েছে এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানি। সিবিআই তল্লাশিতে একটি চালান মারফত এই তথ্য জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সিবিআইয়ের এই বক্তব্য শোনার পরই বিচারপতি সিনহা পর্ষদের কাছে এবিষয়ে তথ্য জানাতে চান। কিন্তু পর্ষদ তার কোনও উত্তর দিতে পারেনি। পরবর্তী শুনানির দিন পর্ষদকে এই ব্যাপারে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। এদিকে, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের দপ্তর এবং এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানির অফিস থেকে যে সমস্ত হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছে, তা যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই খরচ পর্ষদকে বহনেরও নির্দেশ দেন বিচারপতি রাজা শেখর মান্থা। কিন্তু পর্ষদ এদিন সিবিআইয়ের দপ্তর নিজাম প্যালেসে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, নথি পরীক্ষার খরচ তারা বহন করতে অপারগ। এছাড়া সিঙ্গল বেঞ্চের ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যেই তারা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছে।