• সোনামুগ ডাল চাষে ভারত সেরা মালদহের ভুতনির চর, জিআই স্বীকৃতি নিতে উদ্যোগ
    বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৪
  • কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: দেশের সেরা মানের ‘সোনামুগ’ ডাল চাষ হয় মালদহের প্রত্যন্ত এলাকা ভুতনির চরে। গঙ্গা ঘেরা এই দ্বীপ এলাকার পলিমাটির বিশেষত্ব ডালের যে বিশেষ স্বাদ-গন্ধ এনে দেয়, অন্যত্র চাষে তা মেলে না। এমনটাই মনে করেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। ভুতনির চরের এই সোনামুগের উৎপাদন ও গুণগত মান আরও বাড়িয়ে দেশ, এমনকী বিদেশের বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। এই ডালের ‘জিআই’ স্বীকৃতিলাভের সুযোগ রয়েছে। শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে সেই প্রক্রিয়া। 


    ভুতনির চরে সোনামুগ ডালের চাষ আরও উন্নত করতে উদ্যোগী হয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অধীন সংস্থা সামগ্রিক এলাকা উন্নয়ন পর্ষদ (সিএডিসি)। মালদহ জেলায় সিএডিসির প্রজেক্ট অফিসার পার্থ রায়চৌধুরী জানান, সোনামুগ ছাড়াও এই জেলার বিভিন্ন কৃষি উৎপাদনের উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষিদপ্তরে বহু বছর ধরে গবেষণামূলক কাজের যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতার সুবাদে মালদহের চাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষবাসের পরামর্শ দিলে সুফল যে  মিলবে, সেই ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। 


    সিএডিসির পক্ষ থেকে চাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে সোনামুগ ডালের চাষ করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ব্যবস্থা হয়েছে বিনামূল্যে বীজ বণ্টনেরও। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। ভুতনির তিনটি দ্বীপে সব মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার একর জমিতে সোনামুগ চাষ হয়। মোট উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় আড়াই হাজার টন। প্রতি বিঘাতে ১০০ থেকে ১২০ কেজি ডাল উৎপাদন হয়। বিশেষজ্ঞদের আশা, উন্নত মানের বীজ, ঠিকঠাক সারসহ চাষের পদ্ধতির উন্নতি করতে পারলে উৎপাদন আরও অনেকটাই বাড়বে। 


    স্বাদে ও গন্ধে উন্নত মানের সোনামুগের দাম বাজারে এমনিতেই অনেকটা বেশি। খুব ভালো মানের সোনামুগ হলে বাজারে তা কেজি প্রতি ৩০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়। এখনই ভুতনির চাষিরা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে ডাল বিক্রি করেন। ডালের মান উন্নত হলে এবং উৎপাদন পরিমাণে বাড়লে তাঁরা আরও বেশি দাম পাবেন। সিএডিসি নিজেও চাষিদের কাছ থেকে  ডাল কিনে বিপণন করার চিন্তাভাবনা করছে বলে পার্থবাবু জানিয়েছেন। 


    বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি করার উদ্দেশে ভুতনির সোনামুগের জিআই তকমা অর্জনের প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু করতে চায় সিএডিসি। কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বিশেষ ধরনের পণ্য হলে এই স্বীকৃতি পাওয়া যায়। তুলাইপঞ্জি ও গোবিন্দভোগ চাল জিআই তকমা পাওয়ার পর দেশ ও বিদেশে তার চাহিদা আরও বেড়ে গিয়েছে। তুলাইপঞ্জি উত্তর দিনাজপুর জেলায় রায়গঞ্জের মোহিনীগঞ্জে এবং গোবিন্দভোগ পূর্ব বর্ধমানের রায়না ও সংলগ্ন এলাকায় চাষ হয়। অন্য এলাকায় এই দুই প্রকার ধান চাষ করা হলেও গুণগত মানের অনেক পার্থক্য হবে। ভুতনির সোনামুগের ক্ষেত্রেও এটা সত্য বলে মনে করেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
  • Link to this news (বর্তমান)