• মেডিক্যাল কলেজের আউটডোরে প্রতিমাসে রোগীর সংখ্যা ১৮ লক্ষ
    বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৪
  • বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: চারদিকে তখন লকডাউন। বাড়ি থেকে বেরতেই ভয় পেতেন রোগীরা। ওই সময় সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে তলানিতে ঠেকেছিল রোগীর সংখ্যা। ২০২০ ও ’২১ সালে সবক’টি মেডিক্যাল কলেজ ও মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মাসে রোগী হচ্ছিল মেরেকেটে ২৭ হাজার। মাছি তাড়ানোর অবস্থা ছিল ভিড়ে ঠাসা আউটডোরগুলির। ছবিটা বদলে গিয়েছে মাত্র তিন বছরে। এখন মাসে প্রায় ১৮ লাখ রোগী হয়! সকাল ৯টা থেকে যেন জনসমুদ্র বইতে থাকে মেডিক্যাল কলেজগুলির চত্বরে। স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি, স্বাস্থ্যদপ্তরের ‌ই঩তিহাসে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে মাসে গড়ে এত রোগী একটা রেকর্ড। তাঁরা জানিয়েছেন, এখনও বছর শেষ হতে প্রায় ৬ মাস বাকি। এই অবস্থাতে রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট আউটডোর রোগীর সংখ্যা ১ কোটি পার করেছে। তাঁরা আশা করছেন, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান ২ কোটি ছাড়াবে! 


    তাও তো এই হিসেব শুধুমাত্র মেডিক্যাল কলেজগুলির। জেলা, মহকুমা, গ্রামীণ হাসপাতাল, সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র ধরলে রোগীর সংখ্যা কোথায় পৌঁছবে, তার হিসেব করা মুশকিল। 


    এবার আসা যাক ইন্ডোর রোগীর হিসেবে। ’২১ সালের করোনার কঠিন দিনগুলিতে মেডিক্যাল কলেজগুলি সহ রা঩জ্যের সব মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সারা বছর ভর্তি ছিলেন মাত্র ৫১, ৯২৪ রোগী। মাসের হিসেবে গড়ে মাত্র ৪৩২৭ জন।  ’২২ সালে তা লাফিয়ে বেড়ে ১৩ লক্ষ পেরিয়ে যায়। আর মাসে? তাও লক্ষাধিক রোগী। ’২৩ সালে ইন্ডোর রোগী আরও বাড়ে, হয় প্রায় ১৯ লক্ষ! অর্থাৎ মাসে দেড় লাখেরও বেশি রোগী। আর এ বছর? প্রথম ৬ মাসেই ১১ লক্ষ পার করেছে। বছর শেষে তা ২২ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলেই মনে করছেন। 


    প্রতি বছর এত রোগী বেড়ে যাওয়ার কারণ কী? শুধুই জনসংখ্যা বৃদ্ধি? সরকারি হাসপাতাল ছাড়া বিপদে আপদে কোথাও যান না আড়িয়াদহের সুদীপ্ত সরকার। বললেন, ‘প্রথমত, রেফার কিছুটা হলেও কমেছে। এখন রেফার করা হলেও রোগীকে স্থিতিশীল করে পাঠানো হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ওষুধের সরবরাহ অনেক বেড়েছে। বাইরে ওষুধ কিনতে গেলে গায়ে ছ্যাঁকা লাগে। সেখানে সরকারি হাসপাতালের স্টোর থেকে বিনা পয়সায় বহু ওষুধই মিলছে। তৃতীয়ত, এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ইউএসজি করানোর ওয়েটিং টাইম কমেছে। আগে তো ৬ মাস, এক বছরের আগে কিছু‌ই হতো না। এখন ৭-১০ দিন, বড়জোর এক মাসের মধ্যে দামি দামি পরীক্ষাগুলি ফ্রিতে হয়ে যাচ্ছে। এই চেষ্টাটাই মানুষের খুব কাজে লাগছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)