• মমতা-অভিষেকের বার্তার পর দলে শুদ্ধিকরণ চাইছে নিচুতলা!
    বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে কর্মীদের ‘বিবেকবান’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে যে সব ওয়ার্ডে ও পঞ্চায়েতে দল হেরেছে, সেইসব জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ‘কড়া ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর এই বার্তার পর অনেক নেতার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। তৃণমূলের একাংশ বলছে, দলে শুদ্ধিকরণ জরুরি। বারাসত, বনগাঁ, বসিরহাট— সর্বত্রই চায়ের দোকান থেকে দলীয় কার্যালয়ে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে ‘শুদ্ধিকরণ’ নিয়ে চর্চা।


    ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটের আগে ‘নবজোয়ার’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে জেলায় জেলায় ঘোরেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে সংগঠনের নিচুতলার হাল-হকিকত অনেকটাই জানেন তিনি। গত লোকসভা ভোটে দলের ভালো ফলাফলের পরও যেসব জায়গায় পরাজয় হয়েছে, তা নিয়ে পর্যালোচনা দরকার ছিল। তিনি গত এক মাস ধরে সেই কাজই করেছেন বলে একুশের মঞ্চে সদর্পে ঘোষণা করেছিলেন অভিষেক। তিনি বলেন, আগামী তিন মাসে এর ফল দেখতে পাবেন। অভিষেকের এই কথার পর অনেক তাবড় নেতার ঘুম উড়েছে। কারণ তাঁরা নিজেদের বুথে হেরেছেন। করুণ অবস্থা শহরগুলির। বারাসত, বসিরহাট ও বনগাঁয় পুরসভা এলাকায় হার হয়েছে তৃণমূলের। চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলারদের (সিআইসি) একাংশের ওয়ার্ডে দল পরাজিত হয়েছেন বিপুল মার্জিনে। ফলে কিছুটা হলেও মুখ পুড়েছে শাসকদলের। অনেকেই বলছেন, নেতাদের স্বজনপোষণই হারের অন্যতম কারণ। বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হাবড়া, অশোকনগর, বারাসত, মধ্যমগ্রাম পুরসভা এলাকাতে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। হাবড়া পুরসভার ২৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই হেরেছে তৃণমূল। বারাসত শহরে তৃণমূলের ফল যথেষ্ট খারাপ। ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টিতে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এখানেই শেষ নয়, বারাসত শহরের একাধিক সিআইসি সদস্যের ওয়ার্ডে ডুবেছে ঘাসফুল। অশোকনগরে ২৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ৬টিতে জিতেছে তৃণমূল। মধ্যমগ্রাম পুরসভায় এলাকায় ২৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টিতে এগিয়ে শাসকদল। অন্যদিকে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা বনগাঁ পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডেই তৃণমূল পরাজিত হয়েছে। গোবরডাঙা পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র দু’টিতে লিড। একই অবস্থা বসিরহাট লোকসভার তিনটি পুরসভাতেই। ফলে অভিষেকের বার্তার পর চাপে নেতারা।


    বারাসত শহরের এক তৃণমূল নেতা বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ব্যবস্থা নিতে পারেন, তাহলে দলটা বেঁচে যাবে। মানুষের কাছে অন্য বার্তা যাবে। হাবড়ার এক নেতার কথায়, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, তবেই মানুষ ফের আমাদের দিকে ফিরবে। আসলে এবারের ভোটে স্থানীয় নেতাদের মাতব্বরির কারণেই মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তৃণমূল থেকে। তাছাড়া ভোটে অন্তর্ঘাতের অভিযোগ থাকা নেতাদের বিরুদ্ধেও দল ব্যবস্থা নিতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)