ফুটপাত দখলকারী হকার-তথ্য একসপ্তাহে আপলোডের নির্দেশ
বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গড়িমসি নয়। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সমস্ত পুরসভাকে ফুটপাত দখলকারী হকারদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য আপলোড করতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে হকারদের আধারকার্ড ও মোবাইল নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক। বুধবার বিকেলে ভার্চুয়াল বৈঠকে এই নির্দেশিকা জারি করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। যদিও হকারদের তথ্য পোর্টালে আপলোড করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কর্মীদের। কেন না, অধিকাংশ হকারের আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর লিংক করা নেই। ফলে নথি আপলোড করতে কয়েকগুণ সময় লেগে যাচ্ছে কর্মীদের। স্বাভাবিকভাবে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ পুরোপুরি শেষ করা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে পুর-কর্তৃপক্ষ।
সরকারি জায়গা বা ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে শহরের হকারদের নথি সংগ্রহ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়েকদিন আগে এনিয়ে কড়া নির্দেশ দেয় দপ্তর। সেই সূত্রে বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর হকারদের নথি আপলোডের জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে। রাজ্যের সব পুরসভাকে এই নির্দেশিকা দিয়েছেন কর্তারা। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, তথ্য আপলোডের কাজে কোনও গড়িমসি বরদাস্ত করা হবে না। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যত হকার সরকারি জায়গা দখল করে রয়েছেন সেই তথ্য পাঠাতে হবে। শুধু তথ্যই নয়, লোকেশন সহ হকারদের ডিটেলস পোর্টালে আপলোড করতে হবে। সঙ্গে থাকবে ওই হকারের পরিচয়পত্র হিসাবে আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর। আর এ নিয়েই কার্যত ঘুম উড়ে গিয়েছে পুরসভাগুলির। বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায় বলেন, বুধবার বিকেলের ভিসিতে সাতদিনের মধ্যে হকারদের নথি আপলোড করতে বলা হয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে। আমরা সেই কাজ চালাচ্ছি। কিন্তু অধিকাংশ হকার ‘ডিজিটাল’ হননি। ফলে, তাঁদের আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল লিংক করানো নেই। ফলে পোর্টালে যে কাজ ১০ মিনিট লাগার কথা, তা লেগে যাচ্ছে ৩০-৩৫ মিনিট। ফলে সমস্যা হচ্ছে এটা ঠিক। তবে, আমরা কর্মী বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই এই কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে ১৩০০ জনের মতো হকারের তথ্য আমরা আপলোড করে ফেলেছি। এদিকে গোবরডাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর দত্ত বলে, মুখ্যমন্ত্রী ও পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে যা যা নির্দেশ আছে তা অক্ষর অক্ষরে আমরা পালন করছি। ভিডিও কনফারেন্স করে সাতদিনের মধ্যে নথি আপলোড করতে বলা হয়েছে। আমরা তার আগেই সেই কাজ শেষ করব। অশোকনগর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকার বলেন, সব পুরসভাকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দপ্তরের পক্ষ থেকে আমরাও তা পালন করব। তবে, এই কাজ আমাদের প্রায় শেষ পর্যায়ে।