নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: মেট্রোর কাজ চলছে। টানা বৃষ্টিতে তার নীচের রাস্তার করুণ দশা। কোথাও ‘চাঁদের দক্ষিণ মেরু’র মতো বড় বড় গর্ত, কোথাও আবার রাস্তার উপর তৈরি হয়েছে ‘আস্ত পুকুর’। এটা কোনও প্রত্যন্ত গ্রামের ঘটনা নয়, খোদ সেক্টর ফাইভের টেকনোপলিস মোড়ে নিউটাউনগামী রাস্তার এমনই করুণ দশা। তার জেরে ওই এলাকায় গাড়ির গতি আমচকা নেমে আসছে ৫-১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়! তাতেই তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। মাত্র ২০০ মিটার রাস্তা পার হতে সময় লাগছে প্রায় ২০ মিনিট! সেই যানজটে পড়ে নাকানিচোবানি খেতে হচ্ছে গাড়ি চালকদের। দুর্ভোগের অন্ত নেই বাইক চালকদেরও। কারণ, তাঁদের নোংরা জলেই পা ডুবিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে!
নিউ গড়িয়া থেকে এয়ারপোর্ট মেট্রোর কাজ চলছে। তার জেরে সেক্টর ফাইভের টেকনোপলিস মোড়ে যান নিয়ন্ত্রণ চলছে দীর্ঘদিন। কিন্তু, যান চলাচল এতদিন স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু, গত ৪-৫ দিন ধরে শুরু হয়েছে তীব্র যানজট! চিংড়িঘাটার দিক থেকে নিউটাউনগামী রাস্তায় টেকনোপলিস মোড়ের মুখেই দাঁড়িয়ে পড়ছে সব গাড়ি। কেননা রাস্তার করুণ অবস্থা তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সেই রাস্তা আরও খারাপ হয়ে গিয়েছে। ফলে, আচমকা সমস্ত গাড়ি সেখানে এসে স্লো হয়ে যাচ্ছে। তাতেই তৈরি হচ্ছে যানজট। ট্রাফিকের আধিকারিক বলেন, রাস্তা খারাপের জন্য আচমকা টেকনোপলিস মোড়ে এসে গাড়ির গতি ৫-১০ কিমি হয়ে যাচ্ছে! এই অবস্থা সামাল দেওয়া মুশকিল। অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিস মোতায়েন করে সাধ্যমতো চেষ্টা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে দেখা গেল দুর্ভোগের করুণ চিত্র। টেকনোপলসি মোড়েই বাঁদিকে রাস্তার উপর জমে রয়ে নোংরা জল। কাদায় সেই জল পুরু হয়ে গিয়েছে। টলমল করতে করতে বাইক আরোহীরা পার হচ্ছেন। সেই কাদাজলে ভিজছে পোশাক। কিছুটা এগলেই গর্তের সারি। লাফিয়ে লাফিয়ে চলছে গাড়ি-বাইক। এক গাড়ি চালক বলেন, ক্লাচ ও ব্রেকে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ১ নম্বরে ছাড়া গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। ক্লাচপ্লেট পুড়ে না গেলে হয়! এক বাইক আরোহী বলেন, যা পরিস্থিতি, অফিসের পোশাক খুলে এবার গামছা পরে পার হতে হবে!
এই রাস্তাটি নবদিগন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ অথরিটির (এনডিআইটিএ) অধীনে। এক আধিকারিক বলেন, মেট্রোর কাজ চলছিল। তাই মেট্রো আমাদের জানিয়েছে, তারা সংস্কার করে দেবে। বৃষ্টির কারণে এখন বিটুমিনাস দিয়ে রাস্তা তৈরি সম্ভব নয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে মেট্রো কর্তৃপক্ষ বুধবার রাত থেকেই পেভার ব্লক বসিয়ে রাস্তা ঠিক করছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই কাজ শেষ হয়ে যাবে।