নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাত্র হেনস্তাকে কেন্দ্র করে ফের বিতর্ক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঘটনাস্থল সেই মেইন হস্টেল। এবার ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ তুলে কম্পিউটার সায়েন্সের প্রথম বর্ষের ছাত্র বিশ্বপ্রিয় প্রামাণিককে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠল। শুধু তাই নয়, বছর খানেক আগে র্যাগিংয়ে ছাত্র মৃত্যুর পরে যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিসকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, এবারও সে ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্ত ছাত্রকে উদ্ধার করতে গিয়ে পড়ুয়াদের একাংশের বাধার মুখে পড়েছেন হস্টেলের মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট মিতালী দেব। ওই ছাত্রকে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তির জন্য তাঁর কাছে কার্যত মুচলেকা চান কিছু ছাত্র। এমনকী, বিশ্বপ্রিয়র পাশে দাঁড়ানোয় অন্য এক ছাত্রকে ঘুসি মারার অভিযোগও উঠেছে বাকিদের বিরুদ্ধে।
কয়েকদিন আগে লিঙ্গুইস্টিক্স বিভাগের ছাত্র শুভজিৎ আজাদের ল্যাপটপ খোয়া যায় বলে অভিযোগ। তাঁর সন্দেহ ছিল পুরুলিয়া থেকে যাদবপুরে পড়তে আসা বিশ্বপ্রিয়র উপরে। বুধবার রাতে তাঁকে ঘিরে ল্যাপটপ ফেরত দিতে চাপ দেওয়া শুরু হয়। বিশ্বপ্রিয় তাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর যায় ডিন অব স্টুডেন্টস রজত রায়ের কাছে। তিনি মিতালী দেবকে বিষয়টি দেখার অনুরোধ করেন। মিতালীদেবীর বক্তব্য, তিনি গিয়ে দেখেন ছাত্রটি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে রয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নাহলে পরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়তেন ওই পড়ুয়া। তবে, এটা করতে গিয়ে তিনি বাধা পান। কয়েকজন ছাত্র তাঁকে বলতে থাকে, তিনি যে বিশ্বপ্রিয়কে নিয়ে চলে যাচ্ছেন, সেটা নিজের দায়িত্বে। এটাই লিখিতভাবে দিতে হবে। যদিও, শেষপর্যন্ত মিতালীদেবী সেসব না করেই ওই ছাত্রকে নিয়ে আসতে পারেন। পরে ল্যাপটপটিও যথাস্থানে পাওয়া গিয়েছে বলে খবর।
উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত রয়েছেন দিল্লিতে। রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু সকালে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে ছাত্রকে দেখে আসেন। তবে, রাত পর্যন্ত পুলিসে অভিযোগ দায়ের হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক যোগও থাকতে পারে। আক্রান্ত ছাত্রটি ফ্যাস সংগঠনের সদস্য। আর তাঁকে যাঁরা ঘিরে রেখেছিলেন, তাঁরা ডিএসএফের। দু’টি সংগঠনের বিরোধিতা ক্যাম্পাসে সর্বজনবিদিত। ফ্যাসের বক্তব্য, বছরখানেক আগে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের একটি অংশ শাস্তি পাচ্ছে। যারা তা পায়নি, তারাই এদিনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। যদিও, ডিএসএফের তরফে এই দাবি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এক বছর আগে বাংলা বিভাগের সেই মৃত ছাত্রের মা’ও এদিনের ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তদের এখনও শাস্তি হল না। বিশ্ববিদ্যালয় কোনও ব্যবস্থা নিয়ে উঠতে পারল না। এর মধ্যে আবার আরেকটি ছেলেকে হেনস্তার শিকার হতে হল। তিনি চান, দেশে এমন শাস্তির বিধান হোক যাতে র্যাগিং করা তো দূরের কথা, শব্দটি উচ্চারণ করতেও ভয় পায় এ ধরনের বিকৃত মনোভাবের ছাত্রছাত্রীরা। প্রসঙ্গত, ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তদের শো-কজ চিঠি পাঠানো শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের উত্তরের ভিত্তিতে শাস্তি প্রদানের বিষয়ে এগনো হবে বলে আগে জানিয়েছিলেন ভাস্কর গুপ্ত।