• দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পুরসভার বকেয়া কর মেটাচ্ছে না রেল
    বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সম্পত্তি কর তিন মাসে ১১.৬৪ টাকা। বছরে ৪৬.৫৬ টাকা। ওই ‘বিরাট’ টাকার সম্পত্তি করের পাওনাদার বাঁশবেড়িয়া পুরসভা। কর দেওয়ার কথা ভারতীয় রেলের অধীনস্ত বাঁশবেড়িয়া স্টেশন কর্তৃপক্ষের। কিন্তু ২০০৪ থেকে একটি পয়সাও রেল কর্তৃপক্ষ দেয়নি। ২০ বছরে চিঠিচাপাটি কম হয়নি। কিন্তু এক বছরের করের টাকাও পুরসভা পায়নি। যদিও টাকার পরিমাণ সুদ সহ বাড়তে বাড়তে বর্তমানে প্রায় লক্ষাধিক টাকা হয়েছে। সদ্য গত মার্চের অর্থবছর শেষের পরে আবারও চিঠি দিয়েছে পুরসভা। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ এখনও টাকা মেটায়নি। একইভাবে ত্রিবেণী স্টেশনের করের টাকাও বকেয়া পড়ে আছে। যদিও সে টাকার পরিমাণ অনেক কম, মাত্র তিন হাজার। কিন্তু বিরাট সম্পদের অধিকারী রেল সেই টাকাও মেটায়নি।


    রেলের সম্পত্তি কর নির্ধারণ হলেও মালিকানা আছে দেশের রাষ্ট্রপতির নামে। অর্থাৎ বাঁশবেড়িয়া স্টেশনের করের রসিদ কাটা হয় রাষ্ট্রপতির নামে। এমন একটি ‘স্পর্শকাতর’ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন বাঁশবেড়িয়ার পুরকর্তারাও। পুরসভার চেয়ারম্যান আদিত্য নিয়োগী বলেন, বাঁশবেড়িয়া স্টেশনের হোল্ডিং নম্বর ১৩৩। তা ভারতের রাষ্ট্রপতি, ইস্টার্ন রেলের নামে আছে। গত প্রায় ২০ বছর ধরে একটি করের পয়সাও বাঁশবেড়িয়া ও ত্রিবেণী স্টেশন কর্তৃপক্ষ দেয়নি। আমাদের প্রায় ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৬৩১ টাকা পাওনা আছে। প্রতি বছর চিঠি দিয়েও কোনও সুবিধা হয়নি। রেলকর্তারা যোগাযোগও করেন না। বাঁশবেড়িয়া ও ত্রিবেণী স্টেশন কর্তৃপক্ষ এনিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চায়নি। তবে দুই স্টেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বিষয়গুলি প্রতিবারই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। সেখান থেকে কোনও নির্দেশ না আসার কারণেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হয়নি।


    হুগলির বাঁশবেড়িয়া পুরসভার আওতায় রেলের দু’টি সম্পত্তি আছে। একটি বাঁশবেড়িয়া স্টেশন, অন্যটি ত্রিবেণী স্টেশন। সরকারি নথি বলছে, বাঁশবেড়িয়া স্টেশনের জন্য সম্পত্তি কর ধার্য হয়েছিল প্রতি তিন মাসের জন্য ১২.২৫ টাকা। তাতে আবার ০.৬১ পয়সা রিবেটের ব্যবস্থাও আছে। পুরসভার তথ্য অনুসারে ২০০৪-০৫ অর্থবর্ষের প্রথম তিন মাসের টাকা দেওয়ার পরে রেল কর্তৃপক্ষ আর একটি টাকাও দেয়নি। ফলে, কর বাবদ ৪১, ০৮৪.০৭ টাকা ও সুদের ৭০,৫৪৭.৪১ টাকা সহ মোট ১ লক্ষ ১১ হাজার ৬৩১ টাকা ৪৮ পয়সা পুরসভার বকেয়া রয়েছে। গত ৪ মার্চ এনিয়ে পুরসভা পূর্ব রেলকর্তাদের চিঠি দিয়েছে। তারপরেও ওই বিষয়ে একবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ রেল কর্তৃপক্ষ করেনি। 


    ত্রিবেণী স্টেশনের করের রসিদ কাটা হয় চিফ ইঞ্জিনিয়ার রেলওয়ের নামে। হোল্ডিং নম্বর ১০৯। ওই স্টেশনের খাতে সম্পত্তি কর অবশ্য ২০০৭-০৮ সাল থেকে বকেয়া হয়ে আছে। পাওনার পরিমাণ ১২৯৫.৩৫ টাকা। সুদ মিলিয়ে যা হয়েছে ৩০০০.৭৫ টাকা। সেই টাকাও রেল কর্তৃপক্ষ মেটায়নি। পুরসভার কর বিভাগের এক কর্তা বলেন, বছর বছর নিয়ম করে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা মেটানো হয় না। এই বিষয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্রের সঙ্গে গত তিন-চারদিন ধরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, মেসেজেরও উত্তর দেননি।
  • Link to this news (বর্তমান)