৩৫ লক্ষের আলোকসজ্জা কলেজ স্কোয়ারের পুজোয়, এলইডির মাধ্যমে দুর্গার আবির্ভাবের কাহিনি
বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৪
রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: এ যাবৎকালের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে কলেজ স্কোয়ার এবার তাক লাগাতে চলেছে। চমক বললে হয়ত আক্ষরিক অর্থে তুলনাটা ছোট শব্দ হয়ে যায়। কারণ মূল আলোর জন্য এবার কলেজ স্কোয়ার দুর্গাপুজা কমিটি খরচ করতে চলেছে ৩৫ লক্ষ টাকা। তার উপর রয়েছে রাস্তার আলো, আশপাশের সুউচ্চ বাড়িগুলি থেকে আলোর উজ্জ্বল ঝর্ণাধারা, যাতায়াতের পথের আলোর কারুকার্য। এই বিপুল আলোর রোশনাইতে পুজোয় ঢেউ খেলে যাবে কলেজ স্কোয়ারের ঝিলে।
ভক্তি, নিষ্ঠা, পরম্পরা এক সারিতে গিয়ে মেশে কলেজ স্কোয়ারের দুর্গাপুজোয়। কলকাতার যে ক’টি দুর্গাপুজো হয়, তার প্রথম তালিকাতেই থাকে এই পুজো। শুধুমাত্র কলকাতা বা আশপাশের জেলা নয়, রাজ্যের প্রত্যেকটি প্রান্ত থেকে এমনকী বিদেশ থেকেও মানুষ আসে এখানে। শিয়ালদহ কাছে হওয়ায় যাতায়াতের দিক থেকেও মানুষের সুবিধা হয় পৌঁছতে। প্রতিমার মধ্যে আলাদা স্নিগ্ধতা আছে বলে ভক্তদের মত। তার সঙ্গে থাকে আলোর খেলা। যা দেখতে চতুর্থী থেকেই ভিড় জমে কলেজ স্কোয়ার প্রাঙ্গণে। কিন্তু এযাবৎকালে কলেজ স্কোয়ার যে আলোর ঝলকানি দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত করেছিল, এবার সেই রেকর্ডও ভাঙতে চলেছে।
মণ্ডপ সংলগ্ন মূল অংশের আলোর জন্য পুজো কমিটি খরচ করছে ৩৫ লক্ষ টাকা। মুম্বই থেকে আলোক ব্যবস্থাপনার এক্সপার্ট টিম এসে সাজিয়ে তুলবে পুজো প্রাঙ্গণ। জলের উপর আলোর ভেলকি তৈরি হবে। আবার দুর্গার আবির্ভাবের কাহিনিও ধরা পড়বে। ৭৭তম বছরে কলেজ স্কোয়ারের এটাই এবার মেগা চমক হতে চলেছে। পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের আশা, এবার যে ধরনের আলোর কারুকার্য হতে চলেছে তা কলকাতা তথা বাংলার আর কোনও পুজো কমিটির প্রাঙ্গণে দেখা মিলবে না। পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা বিকাশ মজুমদার বলেন, এতটুকু বলতে পারি, এবার যখন দর্শনার্থীরা পুজো প্রাঙ্গণে আসবেন তখন মোবাইল ক্যামেরায় তোলা ছবি বন্দি থাকবে সারা জীবনের মতো। এবার পুজো কমিটি পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিমা শিল্পী সনাতন রুদ্র পালকে বিশেষভাবে সংবর্ধনা দেবে। এছাড়াও বাংলার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে থাকা দুই প্রবীণ রাজনীতিবিদ সৌগত রায় এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সংবর্ধনা দেবে। ঘটনাচক্রে এবছরই দেশে লোকসভা নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের পার্লামেন্ট হাউস এবার মণ্ডপের আঙিনায় তুলে ধরতে চলেছে কলেজ স্কোয়ার। সেটাও অন্যতম চমক হতে চলেছে এবছর।