• ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, তাই শান্তিনিকেতনে কবিগুরুর মূর্তি বসাতে আপত্তি বিশ্বভারতীর
    বর্তমান | ২৮ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, বোলপুর: কবিগুরু হস্তশিল্প সমিতিতে বোলপুর পুরসভা ও সমিতির যৌথ উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথের পূর্ণাবয়ব মূর্তি বেশ কিছুদিন আগে স্থাপন করা হয়েছিল। আজ, রবিবার সেই মূর্তি উন্মোচন করার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের আপত্তিতে সেই অনুষ্ঠান পিছিয়ে গেল। কেননা শান্তিনিকেতন এই মুহূর্তে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে পরিচিত। সেই সম্মান ধরে রাখতে শান্তিনিকেতন তথা বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে ইউনেস্কোর নিয়ম নীতি মেনে চলতেই হবে। নচেৎ হেরিটেজ সম্মান খোওয়ানোর সম্ভাবনা প্রবল। মূর্তিটি হেরিটেজ কোর এরিয়া থেকে ২০০ মিটার, তথা বাফার জোনের মধ্যে রয়েছে, এমনটাই দাবি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের। বিষয়টি জানাজানি হতেই বিতর্ক এড়াতে পুরসভা রবীন্দ্রনাথের ওই মূর্তি উন্মোচনের অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করল। পুরসভার এই সিদ্ধান্তকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।


    উল্লেখ্য, যেখানে মূর্তিটি বসানো হয়েছিল, সেটি বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের প্রবেশের আগে রয়েছে। সেখানে স্থানীয় হস্তশিল্পীরা কবিগুরু হস্তশিল্প সমিতি নামে একটি বাজার দীর্ঘদিন ধরে চালাচ্ছে। বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ওই জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি বলে দাবি করে জবরদখল সরাতে উদ্যত হন। এমনকী, অনশনেও বসেন। যদিও হস্তশিল্পীদের দাবি ছিল, ওই জায়গাটি পিডব্লুডির অন্তর্গত। 


    তবে জায়গাটি কাদের, তাই নিয়ে খতিয়ে দেখছেন মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। এরমধ্যে ওই বাজার প্রাঙ্গণে কবিগুরুর একটি মূর্তি বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজার কমিটি। সেই কাজে এগিয়ে আসে পুরসভা। মূর্তি বসানোর প্রক্রিয়াও সম্প্রতি সম্পূর্ণ হয়। এরপর গুরুদেবের প্রয়াণ দিবসের প্রাক্কালে আজ, রবিবার উদ্বোধন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় আপত্তি তোলে। তাদের দাবি, এলাকাটি হেরিটেজের বাফার জোনে রয়েছে। মূর্তি বসানো হলে তা শান্তিনিকেতনের ভাবনা ও আদর্শের পরিপন্থী হতে পারে। সেক্ষেত্রে ইউনেস্কোর কাছে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। 


    বিষয়টি জানার পর পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ তড়িঘড়ি অনুষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। তিনি বলেন, ভালো উদ্দেশ্যে নিয়েই মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। বিশ্বভারতীর কোনও সমস্যা হোক, আমরা চাই না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, গুরুদেবের মূর্তি বিশ্বভারতীর প্রবেশ পথে না বসিয়ে অন্যত্র বসানোর সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে ভালো। পুরসভা এ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তাদের ধন্যবাদ। সর্বোপরি কোর এরিয়া ও বাফার জোনের চ‍রিত্র যাতে ঠিক থাকে, তা সব পক্ষকে দেখতে হবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)