সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েও নবদ্বীপের বাবলারির শ্রীশ্রী সিদ্ধেশ্বরী মাতার মন্দিরে চুরি আটকানো গেল না। শনিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান, মন্দিরে চুরি হয়েছে। ঘটনা জানাজানি হতেই সকাল থেকে স্থানীয়রা মন্দিরে ভিড় করেন। খবর পেয়ে নবদ্বীপ থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। মন্দিরের তরফে থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিস তদন্ত শুরু করে।
নবদ্বীপের উত্তরাঞ্চলে বাবলারি পঞ্চায়েত এলাকায় এই মন্দির রয়েছে। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে ভাগীরথী-তীরবর্তী এই স্থানে এক তান্ত্রিক সিদ্ধেশ্বরী মাতার মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। লোকশ্রুতি অনুযায়ী, বাবলারির এই নির্জন স্থানে দক্ষিণাকালীর মূর্তি স্থাপন করে ওই তান্ত্রিক তন্ত্রসাধনা করতেন। তাঁর সাধনায় সিদ্ধিলাভও করেন। সেই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত ব্রহ্মশিলায় প্রাচীন সিদ্ধেশ্বরী মাতার পুজো হয়ে আসছে। সাধারণ ভক্তদের ইচ্ছায় গত ১৪ জুলাই মন্দিরে দেবীর একটি পাথরের মূর্তি স্থাপিত হয়। শুক্রবার রাতে মন্দিরের পিছনে গ্রিলের ফাঁকে হাত ঢুকিয়ে বিগ্রহের কপালের দু’টি সোনার টিপ, রূপোর তৈরি গলার হার ও কপালের টিকলি চুরি করেছে।
মন্দির কমিটির অন্যতম পরিচালক অসিতকুমার দে বলেন, শুক্রবার রাতে মন্দির প্রাঙ্গণেই মিটিং ছিল। আমরা সবাই মিটিং সেরে রাত ১০টার পর বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। এই মন্দিরে দু’টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে। সকালে গ্রামের একজন ফোন করে জানান, মন্দিরে চুরি হয়েছে। চোরেরা কিন্তু মন্দিরের তালা ভাঙেনি। সিসিটিভির তার ছিঁড়ে মন্দিরের পিছনের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বিগ্রহের গয়না নিয়ে গিয়েছে। ১৪ জুলাই মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠার সময় ভক্তরা মানত হিসেবে এই দু’টি সোনার টিপ, রূপোর হার ও টিকলি দিয়েছিলেন। বিষয়টি থানায় জানিয়েছি। পুলিস এসেছিল। তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও বেশ কয়েকবার মন্দিরের প্রণামী বাক্স ভেঙে টাকা চুরি হয়েছিল। ইদানিং বাবলারিতে চুরি বেড়ে গিয়েছে।
এই মন্দিরের সঙ্গে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। এখানে প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছর ধরে প্রাচীন ব্রহ্মশিলারূপে দেবীর পুজো হয়। পঞ্চমুণ্ডীর আসন রয়েছে। আগে এখানে সিদ্ধেশ্বরী মাতার কোনও মূর্তি ছিল না। ব্রহ্মশিলা ও ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে দেবীর পুজো হতো।