• এগারো জনের আত্মবলিদানই তৃণমূলের পথচলার প্রেরণা, স্মৃতিতর্পণ নেতাদের
    বর্তমান | ২৮ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নানুর: ২০০০ সালে সূচপুরের ১১ জনের শহিদের লড়াই আমাদের এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করে। শহিদদের আত্মবলিদানের প্রেরণাই যেন তৃণমূল কর্মীদের কাছে আগামী দিনে চলার পথ হয়। শনিবার নানুরের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে কর্মীদের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূল নেতারা। মন্ত্রী মলয় ঘটকের গলাতে সেই প্রত্যয় শোনা গেল। এদিন বাসাপাড়ার মাঠ কানায় কানায় ভর্তি হয়ে যায়। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, কেতুগ্রামের বিধায়ক শাহানাজ হুসেন, সাংসদ অসিত মাল, বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, অভিজিৎ সিনহা সহ জেলা কোর কমিটি ও জেলা কমিটির অন্যান্য নেতৃত্বরা। 


    মঞ্চে উপস্থিত নেতারা ২০০০ সালের সেদিনের হাড়হিম করা ঘটনার বর্ণনা করেন। শাহানাজ বলেন, সেদিনের নানুরের ইতিহাস আজ আমাদের দলকে মজবুত করেছে। সেদিন সিপিএমের হার্মাদ বাহিনী ১১ জন তৃণমূল কর্মীকে হত্যা করে। তাঁদের কী অপরাধ ছিল? তাঁদের একটাই অপরাধ ছিল, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল করতেন। সেই জন্য মাঠের মাঝে একটা ঘরে ঢুকিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে সেদিন জননেত্রী ছুটে এসেছিলেন। সেবার থেকে প্রতিবছর ২৭ জুলাই আমরা শহিদ দিবস পালন করি। এরপর একে একে অন্যান্য নেতাও সেদিনের স্মৃতিচারণ করেন। সম্মান জানানো হয় শহিদ পরিবারের সদস্যদেরও। 


    মলয়বাবু বলেন, সেদিন আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নানুর এসেছিলাম। দেখেছিলাম মানুষের হাহাকার। এই শহিদদের রক্ত কোনদিন ব্যর্থ হবে না। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। এই ইতিহাসই আমাদের অনুপ্রেরণা। অন্যদিকে, কাজলের গলায় ফের একবার শোনা যায় অনুব্রত মণ্ডলের নাম। তিনি বলেন, পার্টি অফিসে অনুব্রত মণ্ডলের ছবি কেন নামানো হয়েছিল, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু আসল সত্য কেউ জানতে চেষ্টা করেননি। গোটা জেলায় টিম অনুব্রত কাজ করছে। আমাদের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই। শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে শপথ নিন, বিধানসভায় আমাদের ১১ জন প্রার্থীকেই জেতাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে ১১ বিধায়ক উপহার দিতে পারাই হবে শহিদদের প্রতি সম্মান জানানো।


    এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ২৪ বছর আগের ঘটনা এখনও অনেকের স্মৃতিতে টাটকা হয়ে রয়েছে। কথা হচ্ছিল এলাকার শেখ শামাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, সেসময় সিপিএম ছাড়া অন্য কোনও পার্টি করাটাই ছিল প্রধান অপরাধ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন গ্রামের মানুষদের মনে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেন। সেদিন সবাই যখন ঘটনাটা শুনলাম, তখন সব ফেলে বোলপুর হাসপাতালের দিকে ছুটলাম। এতটা নৃশংস কোনও পার্টি হতে পারে, তা ভাবতেও শিউরে উঠি। এখন সেই নানুর অনেকটাই বদলে গেছে। নানুর এখন একেবারেই শান্ত। এদিনের শহিদ দিবস নিয়ে সিপিএম নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।   নিজস্ব  চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)