রাতে বাড়ছে বহিরাগতদের আনাগোনা, চুরি! পুলিস ক্যাম্পের দাবি কালিয়াগঞ্জের পুরগ্রামে
বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পুরগ্রাম। কালিয়াগঞ্জ ব্লকের অনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এই গ্রামে রাতে বেড়েই চলেছে বহিরাগতদের আনাগোনা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে রাতের অন্ধকারে গরু, নেশার সামগ্রী পাচার করা হচ্ছে। বাড়ছে বহিরাগতদের আনাগোনা। তাই এলাকার নিরাপত্তার জন্য পুরগ্রামে স্থায়ী পুলিস ক্যাম্প করার দাবি জোরাল হয়েছে। এলাকার ৮৫ জন বাসিন্দার সই করা আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের কাছে। কালিয়াগঞ্জ থানা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে এই গ্রামে পুলিস ক্যাম্প হলে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
এলাকার দিপালী বর্মন বলেন, পুরগ্রামে ধুকুরবাড়ি হাট রয়েছে। সপ্তাহে দু’দিন বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ে। ঠেকে চুল্লু খেয়ে এলাকার মহিলাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে বহিরাগতরা। হাট বাজারে নেশার সামগ্রী বিক্রি বাড়ছে। রাত গভীর হলেই বিকট শব্দের বাইক নিয়ে বহিরাগতরা সীমান্ত এলাকায় ঘোরাফেরা করে। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয় দীপক দাস, আনিসুর রহমান বলেন, এলাকায় মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন চুরির ঘটনা ঘটছে। সীমান্ত দিয়ে গরু, কাফসিরাপ পাচার করা হচ্ছে। অভিযোগ জানানো হলেও কালিয়াগঞ্জ থানা থেকে পুলিস আসতে অনেক সময় লেগে যায়। আমরা চাই গ্রামে পুলিস ক্যাম্প হোক। ধুকুরবাড়ি হাট কিংবা কানাইপুকুর মোড় এলাকায় ফাঁকা জমি আছে। পুলিস চাইলে সেখানে স্থায়ী ক্যাম্প করতে পারে। আমরা সবরকম সাহায্য করব।
বাসিন্দাদের সমস্যা প্রসঙ্গে অনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ববিতা সরকার বলেন, পুরগ্রামে এলাকার বাসিন্দারা পুলিস ক্যাম্প চেয়েছেন। আমিও পুলিসকে একই আবেদন জানিয়েছি। সীমান্ত গ্রাম হওয়ায় সন্ধ্যার পর বাইরে থেকে অনেকেই আসছেন। গ্রামের বাসিন্দারা বহুবার এই অভিযোগ করেছেন। তাঁদের আতঙ্ক কাটাতে পুলিস ক্যাম্প জরুরি।
কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, বাসিন্দাদের আবেদনপত্র পেয়েছি। পুলিস ক্যাম্প দ্রুত করা যায় না। তবে তাঁদের আবেদন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরগ্রাম এলাকায় পুলিস নিয়মিত টহল দিচ্ছে। সীমান্তে কিছু হলে দেখার জন্য বিএসএফ রয়েছে।