বিয়ের একদিন পর দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু হরিশ্চন্দ্রপুরে
বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: ভাগ্যের কী পরিহাস! মাত্র একদিন হল বিয়ে হয়েছে। কে জানত, বাইক নিয়ে বেরনোটাই কাল হবে। শনিবার রাতে বাইক নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল সদ্য বিবাহিত যুবকের। বিয়ের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ নববধূ। বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন তিনি।
দিল্লিতে কাপড় সেলাইয়ের ফ্যাক্টরি রয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুরের বিতল গ্রামের সাজেন আলিদের। পাঁচ ভাই মিলে সেই ব্যবসা চালাতেন তাঁরা। পাশের গ্রামের এক যুবতীর সঙ্গে বিয়ের ঠিক হওয়ার পর আটদিন আগে ভিনরাজ্য থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন সাজেন। শুক্রবার রাতে তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল। হাতে মেহেন্দির রং ফিকে হওয়ার আগেই ঝরে গেল সাজেনের তাজা প্রাণ। বাইকে বন্ধুর সঙ্গে ফেরার পথে টোটোর মুখোমুখি সংঘর্ষে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় মৃত্যু হয়েছে বছর তেইশের সাজেনের। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ভালুকাগামী রাজ্য সড়কে। ওই যুবকের বাইকের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে টোটো যাত্রী এক মহিলারও। বিয়ের একদিন পরই যুবকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায়। কান্নায় ভেঙে পড়েছে মৃতের স্ত্রী ও তাঁর পরিবার। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মৃত যুবকের বাবা-মাও। পুলিস দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিস জানিয়েছে,সাজেনের সঙ্গে ওই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মায়া দাসের (৫৫)। টোটো যাত্রী মায়ার বাড়ি লক্ষ্মণপুর এলাকায়। তিনি ভালুকায় মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরছিলেন। দুর্ঘটনায় টোটোচালক সুমিত মালাকার এবং বাইক আরোহী তাহের আলিও গুরুতর জখম হয়েছেন। আহত বাইক আরোহীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। টোটো চালক চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি। তাঁদের দু’জনের অবস্থা স্থিতিশীল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তুলসীহাটার দিক থেকে বন্ধু তাহেরকে নিয়ে গোলামোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন সাজেন। অপরদিকে ছিল যাত্রীবোঝাই টোটোটি। বেপরোয়া গতিতে থাকা বাইকটি সরাসরি টোটোয় ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় টোটোযাত্রী সহ বাইক চালক সাজেনের।
স্থানীয়দের দাবি, বাইকচালক সাজেন বেসামাল অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁর মাথায় হেলমেটও ছিল না। বেপরোয়া গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সাজেনের বাবা হাসেন আলি বলেন, আমার পাঁচ ছেলে। সাজেন ছিল ছোট। শুক্রবারই ধুমধাম করে ওর বিয়ে দিই। একসপ্তাহ পর দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে এই দুর্ঘটনা তার প্রাণ কেড়ে নিল। এদিন ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ বাড়ি নিয়ে আসা হয়।
হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। দু’জন গুরুতর জখম হয়েছেন। জখমদের চিকিৎসা চলছে। বাইক চালকের মাথায় হেলমেট ছিলনা। থাকলে বাইক চালক হয়তো প্রাণে বেঁচে যেত। তবে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।