তৃণমূলে চিহ্নিত ‘মিরজাফর’রা, এবার কঠোর ব্যবস্থার অপেক্ষা
বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দলের জন্য কাজ না করে লোকসভা ভোটে বিজেপিকে সাহায্য করেছেন। এমনই ‘মিরজাফরদের’ চিহ্নিত করে নাম জমা পড়ছে তৃণমূল ভবনে। সংসদীয় এলাকা ভিত্তিক কোন নেতা কেমন কাজ করেছেন, তার রিপোর্ট যাচ্ছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেই জানাচ্ছে তৃণমূল সূত্র।
বস্তুত, কিছুদিনের মধ্যেই তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিসরে ব্যাপক রদবদল হতে চলেছে, সেই খবর দলের অন্দর থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। সম্ভাবনাটি আরও দৃঢ়মূল হয়েছে ২১ জুলাই তৃণমূলের সমাবেশ থেকে। সেখানে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া ধমকের মুখে পড়েন পুর কাউন্সিলার থেকে চেয়ারম্যান পর্যন্ত অনেকেই।
আরও একধাপ এগিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, আগামী তিনমাসের মধ্যেই সবকিছু দেখতে পাবেন। ফলে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তৃণমূল একটা বড়সড় ঝাঁকুনি দিতে চলেছে। আর সেই সূত্রেই লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা রিপোর্ট জমা দিচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। বিধানসভা এলাকা ভিত্তিক কোন নেতা লোকসভা ভোটে কাজ করেননি, বসেছিলেন, দলের বিরুদ্ধাচারণ করেছেন, বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন—এঁদের নাম রিপোর্টে উল্লেখ আছে। জানা যাচ্ছে বিশ্বস্ত সূত্রে।
ব্লক, অঞ্চলের বহু জায়গায় দলীয় পদাধিকারী বদলেরও আবেদন রয়েছে ওই চিঠিতে। মূলত, বিধানসভা ভিত্তিক যেখানে তৃণমূল পিছিয়ে পড়েছে, সেখানেই ‘মিরজাফর’ চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে নিজের স্বার্থকে দেখছেন, এমন নেতাদের নামেও অভিযোগ জমা পড়ছে। এই রিপোর্টে যাঁদের নাম থাকছে, তাঁদের সম্পর্কে স্থানীয় স্তরে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জেলা স্তরের সাংগঠনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের আর্জি জানিয়ে নেতৃত্বেকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক। ওই চিঠিতেও বিধায়করা উল্লেখ করেছেন, ব্লক স্তরে কারা, কেমন কাজ করেছেন।
এর আগে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, দলে থেকে দল-বিরোধী কাজ করা যাবে না। বাংলায় যেখানে বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেসের সঙ্গে একযোগে লড়াই চলছে, সেখানে ওই তিন দলের কারও সঙ্গে আঁতাত করার অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দলীয় স্তরেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দল হিসেবে যাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন, কড়া শাস্তির মুখে পড়তে চলেছেন তাঁরাও। তৃণমূল চাইছে, সৎ, নিষ্ঠাবান, আদর্শবান, দলের প্রতি অনুগত সৈনিককেই আগামী ভোটপর্বে ময়দানে নামাতে।