নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের এক নম্বর সরকারি হাসপাতাল পিজি। আউটডোর, ইনডোর, ইমার্জেন্সি—এখানে সব জায়গাতেই রোগীর ভিড় অন্য মেডিক্যাল কলেজগুলির থেকে বেশি হয়। এহেন প্রথম সারির মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সিতে এমআরআই মেশিন কার্যত অকেজো হয়ে রয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের একাংশ জানান, মেশিনটি অনেক পুরনো। অধিকাংশ দিনই খারাপ থাকছে। কপালজোরে চলছে কোনও কোনওদিন। বহুদিন আগে এই বাড়িরই দোতলায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) চলা সিটি স্ক্যান ইউনিটটি পুড়ে যায়। তারপর থেকে ইমার্জেন্সিতে নেই সিটি স্ক্যানের ব্যবস্থাও। এই অবস্থায় বহু মানুষ আশঙ্কাজনক রোগীদের নিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন প্রান্তে ছোটাছুটি করছেন।
পিজি সূত্রের খবর, এখানে সবশুদ্ধ চারটি এমআরআই ইউনিট আছে। দু’টি সম্পূর্ণভাবে সরকার পরিচালিত। দু’টি পিপিপি মডেলে চলে। ইমার্জেন্সি বাদে বাকিগুলি রয়েছে উডবার্ন ওয়ার্ড, ট্রমা সেন্টার এবং বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস-এ (বিআইএন)। সিটি স্ক্যান রয়েছে বিআইএন-এর আউটডোর, ইনডোর এবং পিজির আউটডোর বাড়ির একতলায়। কিন্তু গুরুতর অসুস্থদের ঝটপট সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করার কার্যত কোনও ব্যবস্থাই এখন নেই ইমার্জেন্সিতে। বিপদকালে সময় নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া অন্য যেসব জায়গায় সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই রয়েছে, সেখানকার রোগীর চাপ তো আছেই।
হাসপাতালের রেডিওডায়াগনসিস-এর প্রধান ডাঃ সুখরঞ্জন হাওলাদার বলেন, ‘নতুন এসেছি। কিছু বলতে পারব না। সুপারের সঙ্গে কথা বলুন।’ সুপার তথা উপাধ্যক্ষ ডাঃ পীযূষকান্তি রায় ফোন ধরেননি। তবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কর্তাদের একাংশের দাবি, সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কারণ, পথ দুর্ঘটনা বা অন্য কোনও কারণে আঘাত পাওয়া গুরুতর জখমদের নিয়ে সরাসরি ট্রমা সেন্টারে চলে আসছেন লোকজন। হাসপাতালের অন্য কোথাও গেলেও ট্রমা সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে এমআরআই হয়ে যায়। নিউরো রোগীদের এমআরআই-সিটি স্ক্যান হয়ে যায় বাঙুরে গেলেই। তাছাড়া, উডবার্নের একতলায় এমআরআই তো আছেই। ভুক্তভোগীদের পাল্টা দাবি, ‘ইমার্জেন্সির মতো জায়গায় জরুরি পরীক্ষার ব্যবস্থা অবশ্যই থাকা উচিত।’