• মাঝপথে প্রকল্প ছাড়ে ঠিকাদার সংস্থা, রাজ্য বাজেয়াপ্ত করল ১৯ কোটি টাকা
    বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না-হলে বা কাজের গুণমান বজায় না-রাখলে ঠিকাদারি সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ ওইসব অনভিপ্রেত ঘটনার ফলে যেমন মানুষের সমস্যা হয়, একইভাবে রাজ্যের টাকাও জলে যায়। সম্প্রতি, রানিগঞ্জ কোলফিল্ড এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের অধীনে বাড়ি তৈরির কাজ মাঝপথে ছেড়ে দেয় একটি ঠিকাদার সংস্থা। তার ব্যাঙ্ক গ্যারান্টির প্রায় ১৯ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হল। ওই অর্থ রাজ্যের কোষাগারে জমা পড়েছে বলেই সূত্রের খবর। 


    নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে,  অন্ডাল, বারাবনি ও জামুরিয়ার বহু জায়গা কয়লা খনি সংক্রান্ত নানান সমস্যার কারণে বসবাসের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ফলে সেখানকার কিছু মানুষকে পুনর্বাসন ও নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার লক্ষ্যে একটি বৃহৎ হাউজিং প্রজেক্ট শুরু হয়। ৩,৬৬৪টি বাড়ি তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। প্রকল্পটির জন্য নোডাল দপ্তর হয় শিল্প দপ্তর। আর বাড়ি তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় আবাসন দপ্তরকে। যথাসময়ে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে মাঠে নামে তারা। 


    দরপত্র ডেকে ২০১৯ সালে কাজের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় একটি প্রাইভেট সংস্থার হাতে। কিন্তু তারা মাঝপথেই কাজ ‘ফোর ক্লোজ’ করে দেয় বলে অভিযোগ। ফলে প্রকল্পের কাজ অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছে বলে দাবি দপ্তরের কর্তাদের। শেষমেষ ফের দরপত্র ডেকে নতুন সংস্থাকে দিয়ে কাজ শেষ করতে হয় আবাসন দপ্তরকে। 


    বর্তমানে বাড়ি তৈরির কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। দপ্তরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বাড়িগুলি শীঘ্রই উপভোক্তদের হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু যে সংস্থার বিরুদ্ধে মাঝপথে কাজ ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাদের ব্যাঙ্ক গ্যারান্টির টাকাও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। অভিযুক্ত সংস্থা এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গেলে রাজ্যের পক্ষেই রায় দিয়েছে আদালত। ১৯ জুলাই বাজেয়াপ্ত অর্থ জমা পড়েছে রাজ্যের কোষাগারে। রাজ্যের এক পদস্থ কর্তার কথায়, মুখ্যমন্ত্রী বাজে খরচ আটকানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেইমতো সমস্ত দপ্তরেই এই বিষয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই ব্যাপারে আবাসন দপ্তরও তৎপর। এই ধরনের আরও যেসব খেলাপি সংস্থা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে রাজ্য। এমন অনভিপ্রেত ঘটনাগুলির বিরুদ্ধে পূর্ত, সেচ, পঞ্চায়েত প্রভৃতি দপ্তরের তরফেও পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলেই নবান্ন সূত্রের খবর। 
  • Link to this news (বর্তমান)