• রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বহালই থাকছে আরএসএস-নিষেধাজ্ঞা
    বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৪
  • কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত থাকার ব্যাপারে পুরনো যে নিষোধজ্ঞা ছিল, সম্প্রতি মোদি সরকার এক বিজ্ঞপ্তি মারফত তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীদের আরএসএস করার উপর বিধিনিষেধটি থেকেই যাচ্ছে। কারণ ১৯৮১ সালের ১৩ জুলাই রাজ্য অর্থদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তি জারিসহ (৫২২২ এফ) ওই নিষোধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। প্রশাসনিক মহলের মতে, যেহেতু পরবর্তীকালে এই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা রাজ্য সরকার জারি করেনি, তাই এটি এখনও কার্যকর রয়েছে। নতুন করে কিছু না করা পর্যন্ত এটাই বহাল থাকবে। রাজ্য সরকারের ওই নির্দেশিকায় আরএসএস ছাড়াও আনন্দমার্গ ও জামাত-ই-ইসলামির নাম উল্লেখ ছিল। অর্থদপ্তরের নির্দেশিকায় এও বলা ছিল যে, কোনও রাজ্য সরকারি কর্মী ওই তিন সংগঠনের সঙ্গে কোনওভাবে যুক্ত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। 


    ইন্দিরা গান্ধী  প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৯৬৬ সালের ৩০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার এক বিজ্ঞপ্তি মারফত কেন্দ্রীয় কর্মীদের আরএসএস এবং জামাত-ই-ইসলামির সঙ্গে যুক্ত থাকার ব্যাপারে নিষোধাজ্ঞা জারি করে। ইন্দিরা জামানাতেই, ১৯৭০ সালের ২৫ জুলাই এবং ১৯৮০ সালের ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকার এই সংক্রান্ত পৃথক আরও দুটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ১৯৬৬ সালের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নতুন একটি ধর্মীয় সংগঠনও যুক্ত হয়, তার নাম আনন্দমার্গ। এই কারণে রাজ্য সরকার তার কর্মীদের জন্য নিষিদ্ধ হিসেবে যে তিনটি সংগঠনকে চিহ্নিত করেছিল তার মধ্যে আনন্দমার্গের নামও ছিল। জানাচ্ছেন প্রবীণ সরকারি আধিকারিকরা।


    গত ৯ জুলাই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মিবর্গ মন্ত্রক আগের তিনটি বিজ্ঞপ্তির উল্লেখসহ একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে। উল্লেখ্য, কর্মিবর্গ মন্ত্রক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরই হাতে রয়েছে। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় কর্মীদের জন্য নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় আরএসএস আর থাকছে না। বাকি দুটি সংগঠনের কোনও উল্লেখ না-থাকায় স্বাভাবিকভাবেই মনে করা হচ্ছে, সেগুলি নিষোধাজ্ঞার আওতায় থেকে যাবে।
  • Link to this news (বর্তমান)