মানে না মানা, মদ্যপ অবস্থায় সমুদ্রে নেমেই বিপদ ১৫ দিনে ৬ পর্যটকের মৃত্যু দীঘা, মন্দারমণিতে
বর্তমান | ৩০ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘা, মন্দারমণি সহ সংলগ্ন অন্য সমুদ্র সৈকতগুলিতে স্নানে নেমে তলিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ক্রমশই বাড়ছে। রবিবারই দীঘায় সমুদ্রস্নানে নেমে তলিয়ে মারা যান উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরের টিটাগড়ের বাসিন্দা দীপঙ্কর নন্দী (৩০)। ১৫ দিনের মধ্যেই দীঘা, শঙ্করপুর, মন্দারমণি মিলিয়ে ছ’জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গত মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ধরলে সংখ্যাটা ১০ জন। একের পর এক সলিলসমাধির ঘটনায় পুলিস প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাঁদের দাবি, মৃত্যুমিছিল ঠেকাতে পুলিস প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর মূলত জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকে। নিম্নচাপ এবং কোটালের জেরে সমুদ্র ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। ফলে এই সময়টায় দুর্ঘটনা ঘটে বেশি। গতবছরও মে-জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ জন পর্যটকের তলিয়ে মৃত্যু হয়েছিল। দীঘার সমুদ্রে যেমন ভিড়ের মধ্যেই পর্যটকরা স্নানে নেমে তলিয়ে যান, তেমনি উল্টোদিকে মন্দারমণিতে পুলিসি নজরদারি এড়িয়ে ফাঁকা জায়গায় স্নান করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিস আধিকারিকদের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, পর্যটকদের অনেকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সমুদ্রে নামছেন। কর্তব্যরত নুলিয়া ও পুলিসকর্মীরা বাধা দিলে কিংবা বারণ করলেও তাঁরা শোনেন না। বরং তাঁদের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। তাঁদেরই কারও কারও পরিণতি হয় মর্মান্তিক।
রবিবার দীঘার সি-হক ঘোলা ঘাটে বন্ধুদের সঙ্গে স্নান করতে নামেন দীপঙ্কর। পুলিসের দাবি, তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। নুলিয়া এবং পুলিসকর্মীদের নিষেধে কর্ণপাত করেননি। উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে তিনি তলিয়ে মারা যান। গত ২২ জুলাই শঙ্করপুরে পাথরের উপর দাঁড়িয়ে জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে সেলফি তুলছিল বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বাসিন্দা প্রিয়ন্তি পাটোয়ারি (১৭)। বড় ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে মারা যায় প্রিয়ন্তি। তার আগে ১৬ জুলাই মন্দারমণিতে সমুদ্রস্নানে নেমে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের বাসিন্দা তিন পর্যটক সমর চক্রবর্তী (৩৮), কৌশিক মণ্ডল (৩০) ও ঋত্বিক গড়াইয়ের (২৩) মৃত্যু হয়েছিল। আগের দিনই হাওড়ার আন্দুলের বাসিন্দা অনুপম বর্মন (২৫) নামে এক যুবকের মন্দারমণিতে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছিল। তার মাঝে দীঘায় বেড়াতে আসা হুগলির এক পর্যটক লাগোয়া ওড়িশার উদয়পুর সৈকতে তলিয়ে মারা যান। গত ১৬ জুন মন্দারমণির সমুদ্রে স্নানে নেমে বিহারের মুজফ্ফপুরের বাসিন্দা মণীশ কুমারের (২৬) তলিয়ে মৃত্যু হয়েছিল। ১৪ জুন দীঘার জগন্নাথ ঘাটের কাছে তলিয়ে মৃত্যু হয় উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের কিশোর শুভজিৎ দে’র (১৫)। গত ২৫ মে ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা বেদপ্রকাশ সাহু (২৫) নামে এক যুবক দীঘায় তলিয়ে মারা যান। এভাবেই একের পর এক পর্যটকের প্রাণ নিয়েছে সমুদ্র। দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, পুলিস প্রশাসন এ বিষয়ে যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। পর্যটকদের অনেকে মদ্যপ অবস্থায় স্নানে নেমে নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন। সমুদ্রে হাজার হাজার পর্যটক স্নানে নামেন। পুলিস কিংবা নুলিয়াদের পক্ষে তো সবার পিছনে নজরদারি সম্ভব নয়। স্নানে নামা পর্যটকদের নিজেদেরই সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে ডিএসপি (ডিঅ্যান্ডটি) আবুনুর হোসেন বলেন, দীঘার সি-হক ঘোলা ঘাট, ক্ষণিকা ঘাট, পুলিস হলিডেহোম ঘাট সহ যে সমস্ত ঘাটে স্নানের সময় ভিড় থাকে, সেখানে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। সবসময় মাইকিং চলছে। পর্যটকদের সচেতন করতে সতর্কীকরণ বোর্ড লাগানো হয়েছে। মন্দারমণিতেও একইভাবে সচেতনতা এবং নজরদারি চলছে। যাঁরা সমুদ্রস্নানে নামছেন, তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। তাতে দুর্ঘটনা অনেকাংশেই এড়ানো যাবে। কর্তব্যরত পুলিসকর্মী ও নুলিয়াদের সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। পর্যটকরা মদ্যপ অবস্থায় সমুদ্রে নামলেই আটক করা হবে। ফাইল চিত্র