• বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ উদাসীন, হেরিটেজ নিয়ে কোনও কাজ হয়নি শান্তিনিকেতনে
    বর্তমান | ৩০ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, বোলপুর: গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পায় শান্তিনিকেতন। প্রাপ্তির এক বছর হতে চলল, কিন্তু বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় হেরিটেজ সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজই হয়নি বলে অভিযোগ। শান্তিনিকেতনের কতটা অংশ কোর হেরিটেজ এরিয়ার অন্তর্গত, বাফার জোন কতদূর বিস্তৃত— তা নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে সঠিক কোনও তথ্য নেই। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই ১০ মাসে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনও কর্মশালা বা কর্মসূচিও কর্তৃপক্ষ নেয়নি। ফলে, এলাকাবাসীর কাছে বাফার জোনের পরিধি সম্পর্কে কোনও সম্যক ধারণা নেই বলে অভিযোগ। 


    সম্প্রতি শান্তিনিকেতনে কবিগুরু হস্তশিল্প সমিতিতে মূর্তি বসানোর বিষয়টি সামনে আসতেই সেই প্রশ্ন আরও বেশি করে উঠতে শুরু করেছে। 


    পাশাপাশি প্রাক্তনী ও আশ্রমিকদের বক্তব্য, হেরিটেজ স্বীকৃতি অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসনের একান্ত সহযোগিতা। এর জন্য কর্তৃপক্ষের একটি ‘লোকাল হেরিটেজ কমিটি’ তৈরি করা আবশ্যক। সেখানে প্রশাসনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যুক্ত করার কথা। কিন্তু তা হয়নি বলেই বাফার জোনে কবিগুরুর মূর্তি বসানোর মতো বিতর্কিত ঘটনা ঘটল। এই দায় কি ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বা ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব এড়াতে পারেন? কিন্তু এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনও উচ্চবাচ্য নেই। যদিও হেরিটেজ কমিটি জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই এই বিষয়গুলির সমাধান করা হবে।


    সম্প্রতি, দিল্লিতে সাতদিনের ৪৬তম ইউনেস্কোর একটি সম্মেলন আয়োজিত হয়‌। ষষ্ঠ ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ম্যানেজার্স ফোরাম শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে হেরিটেজ সাইটগুলির মূল্যায়ন খতিয়ে দেখে ইউনেস্কো। সেখানে বিশ্বভারতীর প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেরিটেজ সেলের জয়েন্ট কোঅর্ডিনেটর অধ্যাপক অনিল কুমার। কর্তৃপক্ষ হেরিটেজের প্রচার ও সচেতনতা শিবির না করায় দিল্লিতে তাঁকে জবাবদিহি করতে হয়েছে বলে বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে। শান্তিনিকেতনের মূল ৩৬ একর জায়গা হেরিটেজ কোর এরিয়া হিসাবে স্বীকৃত। ‌তার চারপাশের ৫৫০ একর বিস্তীর্ণ এলাকা বাফার জোন হিসাবে সংরক্ষিত। সম্প্রতি কোর এরিয়ার সীমানা নির্ধারণের কাজ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে বাফার জোনের ব্যাসার্ধ কতটা, বিশ্ববিদ্যালয় এখনও তার সীমানা নির্ধারণ করেনি। মূর্তি বিতর্কের বিষয়টি সামনে আসার পরই সেই প্রশ্ন আরও বেশি করে উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টিতে আলোকপাত করার কথা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পত্তি বিভাগের। কিন্তু এই নিয়ে তাদের কোনও উদ্যোগ এ যাবৎ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। 


    ঠাকুর পরিবারের সদস্য, প্রাক্তন আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুরের যুক্তি, অমর্ত্য সেনের জমি বিতর্কে তৎকালীন কর্তৃপক্ষ কার্যত সক্রিয় হয়ে তার পিছনে উঠে পড়ে লেগেছিল। আমি নোবেলজয়ীর পক্ষে কথা বলায় প্রাক্তন উপাচার্য আমার মুণ্ডপাত করতে বাকি রেখেছিলেন। অথচ হেরিটেজ স্বীকৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই দেখে অবাক হচ্ছি। বাফার জোন কতটা বিস্তৃত, কর্তৃপক্ষের উচিত সকলকে দ্রুত অবগত করা। বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী অনিন্দ্য আচার্য বলেন, রবীন্দ্রনাথের মূর্তি বিতর্ক বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ধর্মীয় কার্যকলাপের জেরে যদি হেরিটেজ স্বীকৃতি ক্ষুণ্ণ হয়, তার দায়ভার কে নেবে? তাই কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা। 


    হেরিটেজ সেলের জয়েন্ট কো-অর্ডিনেটর অনিল কুমার বলেন, গত এপ্রিল মাসে হেরিটেজ সেল গঠন হয়েছে। লোকাল কমিটি গঠন হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এই নিয়ে দ্রুত বৈঠকে বসব।
  • Link to this news (বর্তমান)