নিজস্ব প্রতিনিধি, পাঁশকুড়া ও সংবাদদাতা, ঘাটাল: পাঁশকুড়ায় দলের গ্রুপবাজি বন্ধ করতে হবে। লোকসভা ভোটে জেতার পর পাঁশকুড়া ব্লকে প্রথম কর্মসূচিতে এসে নেতৃত্বকে এমনই নির্দেশ দিলেন ঘাটালের সাংসদ দেব। সোমবার পাঁশকুড়া ব্লকের কেশাপাটে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক করেন দেব। তিনি বলেন, অভিমান করে যাঁরা বসে আছেন তাঁদের মাঠে নামানোর সময় চলে এসেছে। নিজেদের মধ্যে যত দ্বন্দ্ব কম হবে ভোটে তত লিড বাড়বে। ভোটের ফল বেরনোর পর আমি পাঁশকুড়ায় এসেছি। তাই কার কত ক্ষমতা সেটা ভোটের ফলাফলে যাচাই হয়ে গিয়েছে। আগে বলেছিলাম, তৃণমূল কংগ্রেসকে হারাতে পারে একমাত্র তৃণমূল। আর আজ বলছি, তৃণমূলকে জেতাতে পারে একমাত্র তৃণমূলই।
সোমবার পাঁশকুড়া, ঘাটাল ও দাসপুর-২ ব্লকে একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেন দেব। প্রথমে পাঁশকুড়ায় আসেন। কেশাপাটে একটি অডিটোরিয়ামে সভা ছিল। সেখানে প্রথমেই দেব ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি বলেন, ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে আমি ভোটে জেতার পর পাঁশকুড়ায় সেভাবে সময় দিতে পারিনি। কিন্তু, এবার জিতলে পাঁশকুড়াকে যথেষ্ঠ সময় দেব বলেছিলাম। ভোটের জেতার তিন মাসের মধ্যে আমি পাঁশকুড়ায় চলে এসেছি। পাঁশকুড়ার উন্নয়নে আমি সবসময়ে পাশে থাকব।
এদিন দেব বলেন, আমি রাজনীতি করতে এসেছি দিদির জন্য। আমি দিদিকে ভালোবাসি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ভালোবাসি। আমি চাই, দলটা যেন ভালো থাকে। দলে যেন দ্বন্দ্ব না থাকে। সবাই যেন সম্মান পায়। ভোটের প্রচারের সময় বুঝেছিলাম, এখানে নেতা-কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। পুরনো দিনের নেতা-কর্মীদের নামাতে হবে। ব্লকে যাঁরা দায়িত্বে আছেন তাঁদের এই কাজটা করা উচিত। সবাইকে নিয়ে চলার সময় শুরু হয়ে গিয়েছে। যত বেশিদিন মিলেমিশে থাকতে পারব, তত বেশিদিন ক্ষমতায় থাকব। পাওয়ারে থাকা মানে এই নয়, আমি কতটা শাসন করতে পারলাম। ক্ষমতায় থাকার অর্থ, আমি মানুষকে কতটা খুশিতে রাখতে পারলাম।
এদিন পাঁশকুড়া শেষে দাসপুর-২ ব্লকের শয়লা এলাকায় নেতা-কর্মীদের মুখোমুখি হন দেব। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে খুব সিরিয়াস। ২০২৫ সালে জানুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ শুরু হয়ে যাবে। ম্যাপিংয়ের কাজ চলছে। এরপর জমি অধিগ্রহণের কাজ হবে। আমার সঙ্গে সেচমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তারা ১২ কিংবা ১৩ আগস্ট সেচদপ্তরের প্রধান সচিবকে নিয়ে ঘাটালে আসবেন।
কর্মীদের উদ্দেশে দেব বলেন, দাসপুর বিধানসভা থেকে ১৭ হাজার ভোটে লিড এসেছে। আমাদের সব কর্মী বের হলে এই মার্জিন আরও বাড়ত। অনেক কর্মী অভিমান করে বসে আছেন। তাঁদের বের করতে হবে। তাঁদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।
সন্ধ্যায় ঘাটালের সাংসদ বীরসিংহে বিদ্যাসাগরের জন্মভিটায় যান। সেখানে মনীষীর ১৩৪ তম তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান ছিল। মূর্তিতে মাল্যদান করেন। ওই অনুষ্ঠান থেকে ঘাটালে ফিরে এসে আগাম বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা সহ সামগ্রিক ইস্যু নিয়ে প্রশাসনিক মিটিং করেন। এছাড়াও দেব ঘাটাল মহকুমায় তিন জায়গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।