গার্লফ্রেন্ডকে স্ত্রী সাজিয়ে দোকানে গিয়ে চুরির গয়না বিক্রি করত ‘জর্দা’
বর্তমান | ৩০ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, কাটোয়া: অফিস টাইমেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গৃহস্থের বাড়িতে হানা দিয়ে চুরি করত ‘বেলডাঙা গ্যাং’। গার্লফ্রেন্ডকে স্ত্রী সাজিয়ে চুরি করা সোনার গয়না দোকানে বিক্রি করত গ্যাংয়ের মূল পাণ্ডা ওয়াজুল শেখ ওরফে জর্দা। রবিবার বহরমপুরে জর্দাকে নিয়ে হানা দিয়ে একটি সোনার দোকান থেকে চুরি যাওয়া ন’ভরি সোনার গয়না উদ্ধার করে কাটোয়া থানার পুলিস। বিভিন্ন জায়গায় গার্লফ্রেন্ডকে নিয়েই সোনার গয়না বিক্রি করত সে। জিজ্ঞাসাবাদ করে জর্দার বেশ কয়েকজন গার্লফ্রেন্ডের খোঁজ পেয়েছে পুলিস।
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে। বাড়িতে না থাকার সুযোগে চুরি করতে অফিস টাইমেই জর্দা তার গ্যাংকে নিয়ে অপারেশন চালাত। বাইকে করেই বিভিন্ন জেলায় চলে যেত। তারপর একের পর এক বাড়ি নিমেষের মধ্যেই লুট করত। একদিনে একাধিক বাড়িতে চুরি করতে ‘সিদ্ধহস্ত’ ছিল সে। কাটোয়ায় পাঁচটি বাড়িতে চুরির অভিযোগে ধৃত বেলডাঙা গ্যাংয়ের পাণ্ডা জর্দা ও তার সঙ্গীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছে পুলিস। জানুয়ারি থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ফরাক্কা থেকে কলকাতা পর্যন্ত বহু জায়গায় ৩৫টির বেশি বাড়িতে চুরির ঘটনায় জড়িত ধৃত জর্দা। চুরি করা সোনার গয়না বিক্রি করে সে রাতভর আসানসোলের লছিপুরে মক্ষীরানিদের পিছনে টাকা ওড়াত। এমনকী তাদের ঘরে গিয়ে জমিদারি স্টাইলে টাকার বন্যা বইয়ে দিত ধৃত গ্যাংয়ের তিনজন। মক্ষীরানিদের টিপস দিত হাজার হাজার টাকা। কাটোয়া থেকে দু’টি বাড়িতে চুরি করা সোনার গয়না বিক্রি করে মাত্র ৫৫হাজার টাকা পেয়েছিল জর্দা। এক রাতে সেই টাকা তারা রানিগঞ্জের লছিপুরে মক্ষীরানিদের ডেরায় খরচ করে ফেলে। জর্দার একাধিক গার্লফ্রেন্ড রয়েছে মুর্শিদাবাদে। বহরমপুর সহ নানা জায়গায় গার্লফ্রেন্ডদের নিয়েই সে সোনার দোকানে ঘুরত।
গত ২৭জুলাই বুদবুদ থেকে ধাওয়া করে বেলেডাঙা গ্যাংয়ের তিন সদস্য ওয়াজুল শেখ ওরফে জর্দা, টিলু শেখ ও আরিজুল শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। কাটোয়া মহকুমার দুই থানা এলাকাতেই তারা দু’দিনে অন্তত পাঁচটি বাড়িতে হানা দিয়ে সর্বস্ব লুট করেছিল। ১৫জুলাই তারা কাটোয়া থানার ননগর গ্রামে একটি বাড়িতে চুরি করে। ওইদিনই জাজিগ্রামে একটি বাড়িতে চুরি করে। ১৯জুলাই কেতুগ্রামে তিনটি বাড়িতে চুরি করে তারা। তারমধ্যে একজন ভিলেজ পুলিসের বাড়িতে হানা দিয়েছিল বেলডাঙা গ্যাং। তাছাড়া পাঁচুন্দি এলাকায় একটি বাড়িতে হানা দিয়ে তারা ২০-২৫লক্ষ টাকার গয়না চুরি করেছিল। তাদের হেফাজতে নিয়ে সোনার গয়না উদ্ধার করে পুলিস।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকায় জর্দা সহ তার দুই সঙ্গী অন্য একজনের অধীনে চুরি করত। তাদের সেই ‘গুরু’ জেলে যাওয়ার পর টিম ভেঙে যায়। তারপর জর্দা নিজে গ্যাং তৈরি করে। হেরোইনের নেশায় সে সবসময় বুঁদ হয়ে থাকে। তদন্তকারীরা এদিন যখন বহরমপুরে সোনার দোকানে জর্দাকে নিয়ে হানা দিয়ে গার্লফ্রেন্ডের কথা জানতে পারে। চুরির সামগ্রী বিক্রি করছে তা কোনওভাবে বুঝতে দিত না। নিজস্ব চিত্র