• শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবার বক্রেশ্বর সহ জেলার শিব মন্দিরগুলিতে ভিড়
    বর্তমান | ৩০ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, সিউড়ি: শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সোমবার বক্রেশ্বর সহ বিভিন্ন শিবমন্দিরগুলিতে উপচে পড়ল ভক্তদের ভিড়। রবিবার রাত থেকে বক্রেশ্বর মন্দির চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন ভক্তরা। ভোর থেকে ভিড় আরও বাড়ে। এছাড়াও সিউড়ি ভুঁইফোরতলা শিব মন্দির, দুবরাজপুরের পাহাড়েশ্বর মামাভাগ্নে শিব মন্দির, সাঁইথিয়া নন্দীকেশ্বরীতলা, রাজনগরের নাকাশ গ্রামের মন্দির, সিউড়ি শহরের একাধিক মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। এমনকী এরাজ্যের পাশাপাশি ঝড়খণ্ড, বিহার থেকেও ভক্তরা কাঁধে বাঁক নিয়ে বীরভূমের বিভিন্ন শিব মন্দিরে জল ঢালতে ভিড় জমিয়েছেন।


    কয়েকদিন আগেও তীব্র গরমের কারণে জেলার বক্রেশ্বর সতীপীঠে ভক্তদের সমাগম ছিল খুবই কম। কিন্তু বক্রেশ্বর মন্দির কমিটির দাবি, এই শ্রাবণ মাসের একটা মাস ব্যাপক ভিড় হয় এই মন্দিরে। সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও প্রচুর ভক্ত আসেন জল ঢালতে। তবে সোমবারে বিশেষ ভিড় হয়। ভক্তদের ভিড় সামাল দিতে মন্দির প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছে দুবরাজপুর পুলিস প্রশাসন। প্রচুর সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে মহিলা পুলিসও মোতায়েন রয়েছে। মন্দিরে যান নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন রাস্তা যেমন ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক, রাজনগর থেকে ঝাড়খণ্ডগামী রাস্তা সহ একাধিক রাস্তা দিয়ে কাঁধে বাঁক নিয়ে হেঁটে বিভিন্ন মন্দিরে যাচ্ছেন ভক্তরা। সেই সব রাস্তায় বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে।


    এদিকে শুধুমাত্র শ্রাবণ মাসেই বক্রেশ্বরে পুণ্যার্থীদের ভিড় হওয়ার কারণে হাসি ফুটেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে। ঝাড়খণ্ডের কুণ্ডহিত থেকে বক্রেশ্বর মন্দিরে আসা এক পুণ্যার্থী দলের সদস্য সমরজিৎ বৈরাগী, মিতা বৈরাগী বলেন, আমরা প্রতিবছর বক্রেশ্বরে জল ঢালতে আসি। বাড়ি থেকেই আমরা সরাসরি হেঁটে এখানে আসি। জল ঢালা হলে আমরা একটা দিন এখানে বিশ্রাম নিয়ে ফিরে যাই। জল ঢালতে আসা নিয়ে পরিবারের সকলের খুব উৎসাহ থাকে। বছরের এই একটা দিনের জন্য আমরা অপেক্ষা করি। 


    অন্যদিকে দুবরাজপুরের মামাভাগ্নে মন্দিরে ভোরে আরতি হওয়ার পরই ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, জেলার গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলিতে ভক্তদের জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)