সংবাদদাতা, হলদিয়া: দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন চুক্তি হয়নি। সেজন্য সোমবার হলদিয়া বন্দরের প্রধান কার্যালয় জওহর টাওয়ারের গেট ঘেরাও করে দিনভর বিক্ষোভ দেখালেন ছোট গাড়ির চালকরা। তাঁরা এদিন কর্মবিরতি পালন করায় বন্দরের অফিসে কাজকর্ম ব্যাহত হয়।
গাড়ি চালকদের দাবি, প্রায় চার বছর ধরে তাঁদের নতুন বেতন চুক্তি হয়নি। ২০২০ সালে বেতন চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু এরপর ওই মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়। এদিন হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স কনট্রাক্টর্স শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে গাড়ির চালকদের একাংশ কর্মবিরতি পালন করেন ও বিক্ষোভ দেখান। তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ মণ্ডল বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। তিনি ১১ জুলাই বন্দর কর্তৃপক্ষকে ওই ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে চিঠি দিয়েছিলেন। চিঠিতে নতুন বেতন চুক্তির জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি না হওয়ায় তিনি এদিন গাড়ি চালকদের একাংশকে নিয়ে আন্দোলনে নামেন।
বন্দরে একটি বেসরকারি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির অধীনে ৮০জন ছোট গাড়ির চালক রয়েছেন। তাঁদের পুরনো বেতন চুক্তিতে ওভারটাইম বেনিফিট সহ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হতো। এখন ওভারটাইম বেনিফিট বাড়িয়ে সাড়ে ৯ হাজার টাকা করার দাবি তুলেছেন ওই চালকরা। এনিয়ে ইউনিয়নের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের টানাপোড়েন চলছে। দেবপ্রসাদবাবু বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ফয়সালার জন্য ১ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। সেজন্য আপাতত কর্মবিরতি তুলে নেওয়া হচ্ছে।তবে আইএনটিটিইউসির তরফে গাড়ি চালকদের কর্মবিরতিকে সমর্থন করা হচ্ছে না। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, দেবপ্রসাদ মণ্ডলের নেতৃত্বে যে ইউনিয়ন শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন করছে, তাতে আইএনটিটিইউসির অনুমোদন নেই। আইএনটিটিইউসি’র প্রাক্তন সভাপতি শিবনাথ সরকার বলেন, সংগঠনের অনুমতি ছাড়া কীভাবে ওই ইউনিয়ন শিল্পসংস্থায় বা বন্দরে চিঠি দিচ্ছে বা কর্মবিরতি পালন করছে, তা খতিয়ে দেখা উচিত। ফলে এদিনের কর্মবিরতি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।আইএনটিটিইউসি’র জেলা নেতৃত্ব বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেন না। সংগঠনের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি চন্দন দে বলেন, বন্দরে কারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে, তার খোঁজ নিচ্ছি। তবে আইএনটিটিইউসি কোনও কর্মবিরতি করেনি।-নিজস্ব চিত্র