নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: কথায় বলে, সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল একটু বাঁকাতে হয়! এতদিন বাবা-বাছা বলে সতর্ক করা হয়েছে। ফাইনের ভয় দেখানো হয়েছে। তাতে কোনও কাজ হয়নি। এবার সরাসরি অ্যাকশন রোমিও বাইকারদের বিরুদ্ধে। ভয়ঙ্কর দ্রুতগতিতে বাইক চালালেই গ্রেপ্তার। সোমবার এমনই দুই বাইকারকে জালে তুলল দুবরাজপুর থানার পুলিস। জানা গিয়েছে, এবার থেকে এই ধরণের অভিযান চলবে। পাশাপাশি, সিসি ক্যামেরায় নজরদারিও চালানো হচ্ছে। সেখানে দ্রুতগামী বাইকারদের ছবি নজরে পড়লেই তাদের ডেকে প্রথমে কড়া ধমক। কথা না শুনলে পরে গ্রেপ্তার।
সোমবার দুপুরে বেপরোয়া গতিতে একটি বাইক রানিগঞ্জ-মোরগ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে পাণ্ডবেশ্বর থেকে পাওয়ার হাউস মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। চালক ও আরোহীর কানে হেডফোন। সম্ভবত সাইলেন্সার খোলা। বিকট আওয়াজ। কান পাতা দায় হয় পথ চলতি মানুষের। এরপরই ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা পুলিস ওই বাইকটির পিছু ধাওয়া করে। কোর্ট মোড়ের কাছে সেটিকে আটক করে। গ্রেপ্তার করা হয় দু’জনকে। তাদের বাড়ি পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডেবেশ্বরে।
গত ক’দিনের ব্যবধানে দুবরাজপুরে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে এক কিশোরের। শহরের ভেতর দ্রুত গতিতে বাইক ও গাড়ি চালানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শহরবাসী। বিশেষ করে রোমিও বাইকারদের দাপতে অতিষ্ঠ পথচলতি মানুষ। বাইকের সাইলেন্সার খুলে বেয়াড়া গতিতে হুঁশ করে বেরিয়ে যাচ্ছে। কর্কশ আওয়াজে কর্ণকূহর ফেটে যাওয়ার জোগাড়। পাশে অন্য কোনও গাড়ি হর্ন বাজিয়ে গেলেও শোনা যায় না। ফলে, দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এই ছবি শুধু দুবরাজপুরেই নয়। সিউড়ি, সাঁইথিয়া সহ জেলার সর্বত্র রোমিও বাইকারদের দৌরাত্ম্য ক্রমেই বাড়ছে। তার উপর বাইক নিয়ে স্টান্টবাজি তো রইয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে পুলিসের উপরও বেজায় চটে সাধারণ মানুষ। কখনও সখনও কাউকে আটক করত পুলিস। সতর্ক করে ছেড়েও দিত। কিন্তু পরিস্থিতির কোনও বদল হতো না।
এবার রোমিও বাইকারদের বিরুদ্ধে কড়া দাওয়াইয়ের শুরুটা করল দুবরাজপুর থানার পুলিস। আর সতর্ক করার রাস্তায় না গিয়ে সরাসরি গ্রেপ্তার। দুবরাজপুর থানার এক অফিসার বলেন, ইতিমধ্যেই সিসি ক্যামেরায় এই সব উচ্ছৃঙ্খল বাইক আরোহীদের চিহ্নিতকরণ করে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। মৌখিকভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। কিছুক্ষেত্রেও জরিমানাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বেপোরোয়াভাবে বাইক চালানো দেখলেই গ্রেপ্তার করাও শুরু করেছি। এই কারণে দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ট্রাফিক আইনের ধারায় মামলা রুজু হবে। সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফের প্রচারও সমানভাবে চলছে। সিউড়ির এক বাসিন্দা বাপি রায় বলেন, সিউড়ি শহরের বেণীমাধব মোড় থেকে এসপি মোড় পর্যন্ত যেভাবে বাইকগুলি বেরিয়ে যায়, তাতে আমাদের বুকে কাঁপুনি ধরে। বিকট আওয়াজে তিতিবিরক্ত অবস্থা সকলের। হেলমেট না পরলে যখন মোটা জরিমানা করা হচ্ছে, তখন এদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। পুলিস ব্যবস্থা নিলে সত্যিই ভালো হয়।