• এবছর শাঁখার ভালো ব্যবসার আশা কোমর বেঁধেছেন মুরুটিয়ার কারিগররা
    বর্তমান | ৩০ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, করিমপুর: মাস দুয়েক বাদেই দুর্গাপুজো। তার আগে বাজেটে সোনার দাম কমায় পুজোতে ভালো ব্যবসার আশায় শাঁখা ব্যবসায়ী ও কারিগররা। তাই এখন থেকেই দিনরাত এক করে শাঁখা তৈরি শুরু করেছেন মুরুটিয়ার বালিয়াডাঙা ও শঙ্খনগর গ্রামের প্রায় আটশো কারিগর। এখানকার তৈরি শঙ্খ ও শাঁখার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি অসম ও ত্রিপুরার মহিলারা অপেক্ষায় থাকেন। পুজোতে সেই চাহিদা পূরণের জন্য চরম ব্যস্ততা এখানকার ব্যবসায়ী ও কারিগরদের মধ্যে। কারণ, দুর্গাপুজো ও ধনতেরসের সময় শঙ্খ ও শাঁখার বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। তার আগেই সব মাল তৈরি করে পৌঁছনোর দায়িত্ব রয়েছে। এলাকার ব্যবসায়ী অরূপ পাল বলেন, ২০১৬ সালে নোটবন্দি ও ২০২০ সালে করোনার কারণে ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ব্যবসায়ী ও কারিগর সবাইকে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয়েছিল। খুব খারাপ সময় গিয়েছে। তারপরেও কয়েক বছর ব্যবসা ভালো যায়নি। তবে পুজোর আগে প্রতিবছর কাজের চাপ বাড়ে। এবছর বাজার একটু খারাপ থাকলেও সম্প্রতি বাজেটে সোনার দাম কিছুটা কমে যাওয়ায় ভালো ব্যবসার আশা রয়েছে। কারণ সোনার সঙ্গে শাঁখার ব্যবসার একটা সম্পর্ক আছে। গ্রামের শাঁখার কারিগর ভক্তদাস বৈরাগ্য, বংশীবদন পাল বলেন, বালিয়াডাঙা ও শঙ্খনগর দু’টি গ্রামে প্রায় একশো ব্যবসায়ী ও আটশো কারিগর প্রতিদিন শঙ্খ ও শাঁখা কাঁটার কাজ করেন। সব মিলিয়ে গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবারের রুজিরুটির ভরসা এই ব্যবসা। এবছর কাঁচামালের জোগান যেমন কম তেমনি দামও বেশি। আবার তৈরি মালের চাহিদাও কমে গিয়েছে। ফলে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সকলেই খুব চিন্তায় রয়েছেন। তবে পুজো পর্যন্ত বাজারে সোনার দাম কম থাকলে শাঁখার ব্যবসাও ভালো হবে। ওই  ব্যবসায়ী আরও জানান, প্রায় একশো বছর আগে ঠাকুরদার সময় থেকে এখানে শাঁখা তৈরির কাজ হয়। বর্তমানে আমার কারখানায় বারো জন কারিগর বছরভর কাজ করেন। আরেক ব্যবসায়ী শ্যাম দাস বৈরাগ্য বলেন, অনেক আগে থেকে আমাদের কাঁচামাল সরাসরি শ্রীলঙ্কা বা চেন্নাই থেকে আসত। তাতে কম দামে ভালো মানের শঙ্খ পাওয়া যেত। কিন্তু গত বছর থেকে শ্রীলঙ্কার পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে মহাজনদের কাছে থেকে চেন্নাইয়ের শঙ্খ নিতে হয়। ফলে কাঁচামালের দাম অনেক বেশি পড়ে যায়। এখানে তৈরি শাঁখা ও শঙ্খ কলকাতা, হুগলি, মালদহ, উত্তরবঙ্গ ছাড়াও অন্য রাজ্যে সরবরাহ করি। সবচেয়ে বেশি মাল পাঠানো হয় অসম ও ত্রিপুরায়। স্থানীয় কারিগর প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, গ্রামের মানুষরা সবাই শাঁখার কাজে যুক্ত। এবছর তৈরি মালের চাহিদা কিছুটা কম। তবে কয়েক দিনের মধ্যে হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে। তাই পুজোর দুই মাস আগে জোরকদমে কাজ চলছে গ্রামের প্রতিটি কারখানায়।   নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)