• মন্ত্রীর এনজিও প্রীতি চন্দ্রকোণা রোডেও জমি প্রদান!
    বর্তমান | ৩০ জুলাই ২০২৪
  • পিনাকী ধোলে, চন্দ্রকোণা: রোড শুধুমাত্র গোয়ালতোড়েই নয়, চন্দ্রকোণা রোডেও অন্তত ২০০ বিঘা জমি লিজে নিয়েছে এক মন্ত্রীর ‘প্রিয়’ এনজিও! ‘নামমাত্র’ টাকার বিনিময়ে মন্ত্রীর ‘মধ্যস্থতায়’ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জমি হস্তান্তর করেছে পঞ্চায়েত সমিতি। তবে, গোটা জেলার মধ্যে কেবল শালবনী বিধানসভাতেই একটি এনজিওকে চারটি জায়গা কীভাবে লিজে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে মন্ত্রীর কি বোঝাপড়া রয়েছে, তা নিয়েও কৌতুহল বাড়ছে বাসিন্দাদের। 


    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দ্রকোণা রোডের ৪ নম্বর উড়িয়াসাই অঞ্চলের গড়বেড়িয়া ও প্রতাপপুর এবং কড়সা অঞ্চলের ছোটতারা এলাকায় প্রায় ২০০বিঘা জমি লিজে এনজিওকে দেওয়া হয়েছে। গড়বেড়িয়ায় প্রায় ৭০ বিঘা জমির জমির অনেকটা জুড়ে আমবাগান ছিল। বাকি অংশে ছিল ভেষজ উদ্যান। সূত্রের খবর, বছরে তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে সেই জমিটি চার বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে। প্রতাপপুরেও প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে আমবাগান ছিল। সেই জমিও একই চুক্তিতে লিজে দেওয়া হয়। ছোটতারাতেও ৬০ বিঘা জমিতে যে আমবাগান রয়েছে, সেটা লিজে দেওয়া হয়েছে ওই এনজিওকে। সংশ্লিষ্ট এনজিও চার বছরের টাকা একসঙ্গে মিটিয়ে দিয়েছে। 


    পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মধ্যক্ষ পবন সাউ বলেন, আমবাগানগুলো আমরা আগেও লিজে দিয়েছি। কোনওটিতেই বছরে ৭০-৮০হাজার টাকার বেশি পাইনি। কিন্তু ওই এনজিওটি আমাদের বছরে তিন লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, এনজিওটি চার বছরের টাকা একেবারেই মিটিয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে পঞ্চায়েত সমিতির নিজস্ব তহবিলের আয় বাড়ছে।


    এনজিও ওই জমিতে আপাতত চাষাবাদ করছে। পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য বলেন, সংস্থাটি যেভাবে জমির পরিচর্যা শুরু করেছে, তাতে মাত্র চার বছরের লক্ষ্য নিয়ে তারা আসেনি বলেই মনে হচ্ছে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট এনজিওকে শালবনী বিধানসভা অন্তর্গত গোয়ালতোড়েও প্রায় ৫০ একরের বেশি জমি বছরে আট লক্ষ টাকার বিনিময়ে লিজ দেওয়া হয়েছে। সেই জমিতে থাকা সরকারি কাজু প্রসেসিং ইউনিটও এনজিওর দখলে। কাজু প্রসেসিংয়ের জন্য নবনির্মিত ভবনে লাগানো হয়েছে এনজিওর বোর্ড। তার ভিতরে বসবাস করছেন সংস্থার কর্মীরা। 


    বিজেপির জেলা মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, পরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে শালবনী বিধানসভার একাধিক জায়গায় জমি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পিছনে টাকার খেলা রয়েছে। প্রশাসন তদন্ত করলেই ধরা পড়বে। 


    এখানেই শেষ নয়। উড়িয়াসাই অঞ্চলের গড়বেড়িয়াতে ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্পের জমিও তুলে দেওয়া হয়েছে বেসরকারি সংস্থার হাতে। বছরে মাত্র দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে ১৮ একর জমি সংস্থাটিকে লিজ দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে এক মন্ত্রী তাঁদের খুব সাহায্য করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সংস্থার এক সদস্য। এনিয়ে শালবনীর বিধায়ক তথা মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাত বলেন, টেগর সোসাইটি তো জমি নিয়ে পালাচ্ছে না। দেশ সেবার কাজ করছে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)