কুচলিবাড়ি পঞ্চায়েত হাতছাড়া বিজেপির, দখল নিল তৃণমূল
বর্তমান | ৩১ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: বিজেপির কাছ থেকে আগেই পঞ্চায়েতের দখল ছিনিয়ে নিয়েছিল শাসকদল। কিন্তু, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্বেও সংরক্ষণের গেরোয় এতদিন বোর্ড গঠন করতে পারছিল না তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার রাতে বিজেপির প্রধান ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেওয়ায় মুশকিল আসান হল। পঞ্চায়েতের নিয়মের জাঁতাকলে পড়ে রাজনীতির ময়দানে জার্সি বদল হলেও কুর্শি বদল হচ্ছে না। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে এমনই ঘটনা ঘটেছে। লোকসভা নির্বাচনের ফলের পর থেকে কোচবিহারে বিজেপিতে ভাঙন অব্যাহত। সোমবার রাতে তৃণমূলের কোচবিহার জেলা পার্টি অফিসে গিয়ে কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নিরোলা ওরাওঁ বিজেপি ছেড়ে শাসকদলে যোগ দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে দীপিকা রায় নামে আরওএক পঞ্চায়েত সদস্য গেরুয়া শিবির ছেড়ে তৃণমূলে নাম লেখান। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির এক মহিলা সদস্য আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন।
তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, মেখলিগঞ্জ ব্লকে ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে সবক’টি তৃণমূলের দখলে চলে এল। মেখলিগঞ্জের বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী বলেন, কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের পদটি তফসিলি উপজাতি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। ওই পঞ্চায়েতে একমাত্র জয়ী প্রার্থী হলেন নিরোলা ওরাওঁ। তিনি এতদিন বিজেপির প্রধান ছিলেন। দলবদল করায় তিনি এখন তৃণমূলের প্রধান হিসেবে পদ সামলাবেন।
২১ আসনবিশিষ্ট কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে এতদিন বিজেপির দখলে ছিল ১১টি। বাকি ১০টির মধ্যে তৃণমূল ৯টি এবং কংগ্রেস ১টি আসন পায়। আগেই বিজেপির একজন পঞ্চায়েত সদস্য এবং কংগ্রেসের একমাত্র পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন। সোমবার রাতে প্রধান সহ দু’জন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে বিজেপির পঞ্চায়েত সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ এবং তৃণমূলের বেড়ে হল ১৩। নিরোলা ওঁরাও জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ হয়েই তাঁর এই দলবদলের সিদ্ধান্ত।
মেখলিগঞ্জের বিজেপি নেতা পবন ভাদানি এ প্রসঙ্গে বলেন, চাপ এবং প্রলোভন দেখিয়ে তৃণমূল দলবদলের খেলায় মেতেছে। এর ফল শাসকদলকে ভুগতে হবে।