• আনন্দধারা প্রকল্পে পড়ুয়াদের ইউনিফর্ম-ব্যাগ তৈরিতে ভুয়ো বরাত, ১০০ কোটির প্রতারণা
    বর্তমান | ৩১ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সরকারি আনন্দধারা প্রকল্পে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের দিয়ে তৈরি করানো হয় স্কুল পড়ুয়াদের ইউনিফর্ম এবং ব্যাগ। তা বিলি করা হয় একেবারে বিনামূল্যে। এই সরকারি প্রকল্পে ভুয়ো বরাতের নামে বড় প্রতারণা চক্রের কিনারা করল বিধাননগর পুলিস কমিশনারেট। আনন্দধারা প্রকল্পে পড়ুয়াদের ইউনিফর্ম ও ব্যাগ তৈরিতে ভুয়ো বরাত দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তে নেমে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ১২ জনকে। ওইসঙ্গে উদ্ধার হয়েছে সরকারি লোগো-যুক্ত কয়েক লক্ষ ইউনিফর্ম ও ব্যাগ। 


    মঙ্গলবার সল্টলেকে বিধাননগর কমিশনারেট অফিসে যুগ্ম পুলিস কমিশনার বাদানা বরুণ চন্দ্র শেখর এবং পঞ্চায়েত দপ্তরের আনন্দধারা প্রকল্পের সিইও সুদীপ সরকার সাংবাদিক সম্মেলন করেন। ছিলেন গোয়েন্দা শাখার এসিপি সম্বিতি চক্রবর্তী। যুগ্ম পুলিস কমিশনার বলেন, ‘এই চক্রের সদস্যরা আনন্দধারা প্রকল্পের বরাত পাইয়ে দেবে বলে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের টোপ দিত। পঞ্চায়েত দপ্তরের সামনে দেখা করেও কথা বলত তারা। তারা হোটেলেও যেত। তারপর বরাতের ভুয়ো নথি ব্যবসায়ীদের দেওয়া হতো। কাউকে ৫৪ কোটি, কাউকে ১৫ কোটি প্রভৃতি মিথ্যে বরাতের নির্দেশিকা দিত। এর জন্য কমিশন ও ফি ববাদ প্রথমে কিছু টাকা নিয়ে নিত প্রতারকরা।’


    তারপর তারা ব্যবসায়ীদের বলত, ইউনিফর্ম ও ব্যাগ তৈরি করার লোকজন তাদের রয়েছে। এই বলে ইউনিফর্ম তৈরি করানোর জন্য দ্বিতীয়বার টাকা নিত। তাতে কিছু ইউনিফর্ম তৈরি করাত। তা ব্যবসায়ীদের দেখানো হতো। সরবরাহ হচ্ছে বলেও তাঁদের জানানো হতো। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা বরাত অনুযায়ী কোনও পেমেন্ট পেতেন না! তারপরই তাঁরা বুঝতে পারতেন, প্রতারিত হয়েছেন। 


    যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘গতবছর জুন মাসে দু’জন ব্যবসায়ী প্রথম বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওইসময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবছর জুন মাসে গুরুগ্রামের এক ব্যবসায়ী একইভাবে প্রতারিত হয়ে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। জুন মাসেই দিল্লির এক ব্যবসায়ী বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।’


    তিনি বলেন, ‘তদন্তে নেমে নতুন করে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে সোমবার ডানকুনিতে এক গোডাউনে হানা দিয়ে ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ইউনিফর্ম, ৯৭ হাজার ব্যাগ এবং ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার জোড়া মজা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারও করা হয়েছে একজনকে। আগে ৮০ হাজার ব্যাগ ও ৬০ হাজার ইউনিফর্ম উদ্ধার হয়। এ পর্যন্ত পুরো চক্রের মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা ও অসমের কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রতারিত হয়েছেন। যাতে কেউ এই ফাঁদে পা না দেন, তার জন্য আমরা সকলকেই সচেতন করছি।’ 


    আনন্দধারার সিইও সুদীপ সরকার বলেন, ‘কেবলমাত্র স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের দিয়েই এই ইউনিফর্ম, ব্যাগ তৈরি করানো হয়। আউটসোর্সিং করা হয় না।’
  • Link to this news (বর্তমান)