নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: সেতুর উপরে নেই কোনও আলো। সন্ধ্যা নামলেই সেখানে বাড়ছে দুষ্কৃতীদের আনাগোনা। শুধু তাই নয়, সেতুর উপর পার্কিং করে রাখা হচ্ছে গাড়ি। ফলে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই অবস্থা হাসনাবাদ ব্লকের বরুণহাটের কাঁটাখালি সেতুর। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চললেও হুঁশ নেই কারও।
বরুণহাট এলাকা দিয়ে বয়ে গিয়েছে কালিন্দী নদী। বহু বছর আগে নদীর উপর সেতু তৈরি করা হয়। ঝাঁ চকচকে সেতুতে নীল-সাদা রংও রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই সেতুর উপরই অস্থায়ীভাবে দোকান তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। কালিন্দী নদীর পারেই বাংলাদেশ। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় যে কোনও মুহূর্তেই দুষ্কৃতীরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ঢুকে পড়তে পারে ভারতে। এছাড়াও অন্ধকারে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের আনাগোনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। রাত হলেই মহিলা থেকে শিশুরা কাঁটাখালি থেকে বরুণহাটে সেতুর পার হয়ে যেতে ভয় পান। কিন্তু সেতুতে আলোর এই অভাব নিয়ে প্রশাসনের কাছে বহুবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ লস্কর বলেন, অনেক বছর হয়ে গেল সেতুর উপরে আলো খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। প্রশাসন আলো সারাইয়ের কোনও ব্যবস্থাই করেনি। অথচ নিত্যদিন এই রাস্তা দিয়েই হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। স্থানীয়ভাবে অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু কেউই কর্ণপাত করেননি। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত সেতুর উপরে আলোর ব্যবস্থা করা হোক। এর ফলে দুর্ঘটনা কমবে এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা সুরক্ষিত থাকবেন। সুমনা মণ্ডল নামে এক বধূ বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করা খুবই সমস্যার। দুষ্কৃতীরা আসর বসায়। রাস্তার উপর পার্ক করা হয় গাড়ি।
এই বিষয়ে হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক দেবেশ মণ্ডলের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। এই বিষয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি এসকেন্দার গাজি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত আমরা পঞ্চায়েত সমিতির সভায় আলোচনা করব। যাতে ওই সেতুর উপরে আলো বসানো হয়, তারও ব্যবস্থা করা হবে। তবে, বিজেপি নেতা পলাশ সরকার বলছেন, আসলে মানুষের সুরক্ষা নিয়ে ভাবে না তৃণমূল। সেই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে সেতুর এই অবস্থা।