যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট, অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়েই দেওয়া হল আহত শ্রমিককে
বর্তমান | ৩১ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ফের দেখা গেল রেলের অমানবিক মুখ! রেলের কাজ করতে গিয়ে আশঙ্কাজনকভাবে আহত শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হল মিনিডরে বসিয়ে। প্রথমে অ্যাম্বুলেন্সে চাপানো হলেও, তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সের পার্সেল গোডাউনের কাছে। বিষয়টি নিয়ে রেলের ডিআরএমের বক্তব্য, যাত্রীদের জন্য ওই অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ। তাই সেখানে ওই শ্রমিককে তোলা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, পার্সেল গোডাউনের কাছে রেল শেডের কাজ চলছিল। সেই সময় প্রায় ৫০ ফুট উঁচু থেকে শেড ভেঙে ওই ঠিকা শ্রমিক মাটিতে পড়ে গুরুতর জখম হন। মাটিতে পড়ে তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আরপিএফ, জিআরপির কর্তারা। ডাকা হয় একটি অ্যাম্বুলেন্সকেও। গুরুতর জখম ওই শ্রমিককে প্রথমে সেই অ্যাম্বুলেন্সে তোলাও হয়। কিন্তু রেলের নিয়মের যাঁতাকলে সেটা আটকে যায়! তাই শেষমেশ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় আশঙ্কাজনকভাবে জখম ওই শ্রমিককে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তোলা হয় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনিডরে। সেই গাড়িতে চাপিয়েই ওই শ্রমিককে নিয়ে আসা হয় হাওড়া হাসপাতালে। তার আগেই অবশ্য হাওড়া স্টেশন চত্বর ছেড়ে চলে যায় অ্যাম্বুলেন্সটি। চূড়ান্ত অমানবিকতার এই ছবি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য শ্রমিককে আনতে প্রায় আধঘণ্টা দেরি হয়।
রেলের এই ভূমিকায় রীতিমতো সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে। আহত ওই শ্রমিকের এক সহকর্মী বলেন, আলগাভাবে লাগানো ফাইবার শিটে ভুল করে পা দিয়ে ফেলেছিল। সেটা ভেঙে তাই অনেকটা নীচে পড়ে যায়। প্রায় ১৫ মিনিট ওই অবস্থায় পড়েছিল। অ্যাম্বুলেন্সে করে কেন তাকে আনা গেল না, জানি না। আমরা বাধ্য হয়ে তাকে শেষ পর্যন্ত ছোটা হাতি গাড়িতে করে নিয়ে আসি।
হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম সঞ্জীব কুমার বলেন, যে অ্যাম্বুলেন্সটি এসেছিল সেটা রেলের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স। কোনও রেলযাত্রী জখম হলে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওই অ্যাম্বুলেন্সটি ওল্ড ক্যাব রোডে রাখা থাকে। তাই ওই শ্রমিকটি জখম হওয়ায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া যাবে কি না, এই নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দেয়। এছাড়াও কিছু কাগজপত্র ছিল না। তবে আমি অ্যাম্বুলেন্সের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাঁদের ডেকে পাঠিয়েছি। তাঁদের সঙ্গে কী চুক্তি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। যদি তাতে লেখা থাকে, কেবলমাত্র আহত রেলযাত্রীদেরই নিয়ে যাওয়া হবে, তাহলে সেই চুক্তির পরিবর্তন করা যায় কি না, সেটাও দেখতে হবে। মানবিকতার খাতিরে একজন আহতকে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত। আমি বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব। তবে ঘটনার পর আহত শ্রমিকের বাড়ির লোকজন তাঁকে আলাদাভাবে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।