ক্যানিংয়ে কাকার বাড়িতে লুটের অভিযোগে ধৃত ভাইঝি সহ তিন
বর্তমান | ৩১ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নিজের মা জমি কিনবেন বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু সেজন্য লাগবে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। কীভাবে জোগাড় হবে এই বিপুল টাকা, সেটাই ভেবে পাচ্ছিলেন না মেয়ে। আর তাই নিজের কাকা বিমল প্রামাণিকের বাড়িতেই লুটপাটের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে শ্রীঘরে গেলেন ভাইঝি। সঙ্গী মা ও মায়ের প্রেমিকও। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিং থানার দিঘিরপাড় অঞ্চলে। জানা গিয়েছে, সেলুন মালিক বিমল প্রামাণিক ওই সন্ধ্যায় নিজের দোকানেই ছিলেন। তখন খবর আসে যে, তাঁর বাড়িতে কয়েকজন দুষ্কৃতী ঢুকে লুটপাট চালিয়েছে। বিমলবাবুর ভাইঝি রাখি প্রামাণিককে বেঁধে রেখে চলে এই কাণ্ড। আলমারির ভল্ট ভেঙে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় ওই দুষ্কৃতীর দল। রাত ন’টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিস।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীদের প্রথম সন্দেহ রাখিদেবীর উপরই যায়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। দফায় দফায় চলে জেরা। তাঁর কথায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। জেরার চাপে ভেঙে পড়ে রাখিদেবী গোটা ঘটনা স্বীকার করেন। পুলিস জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরইে রাখির মা সারথী প্রামণিকের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বাপি মোল্লা নামে এক যুবকের সঙ্গে। তাঁরা ভাঙড়ের ঘটকপুকুরে লিভ-ইন করছিলেন। জমি কেনার জন্য টাকার সংস্থান কীভাবে হবে, সেই উপায় বের করতে গিয়ে রাখি জানতে পারেন, তাঁর কাকার বাড়িতে ১০ লক্ষ টাকা নগদ রয়েছে। এরপরই নিজের মা ও মায়ের প্রেমিকের সঙ্গে লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি। থানায় রাখি একথা স্বীকার করার পরই পুলিসের একটি দল ঘটকপুকুরে বাপি মোল্লার বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকে তাঁকে ও সারথীদেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার হয়েছে ৯ লক্ষ ৮১ হাজার টাকাও। মঙ্গলবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁদের চারদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।