• জুলাইয়ে বৃষ্টির ঘাটতি ২০ শতাংশ ধানই রোপণ করা যায়নি দক্ষিণবঙ্গে
    বর্তমান | ০১ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেখতে দেখতে জুলাই মাস শেষ। এখনও পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ধান চাষের জন্য পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়নি। ফলে এই সময়ের মধ্যে যত পরিমাণ জমিতে ধানের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, তার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পূরণ হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের দুই মেদিনীপুর বা বাঁকুড়ার মতো জেলায় এখনও পর্যন্ত ২০ শতাংশ জমিতেও ধানের চারা রোপণ করা যায়নি। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি খরিফ মরশুমে রাজ্যের ৪১ লক্ষ ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। সেখানে ৩০ জুলাই পর্যন্ত ১৭ লক্ষ ২৬ হাজার হেক্টর (৪২ শতাংশ) জমিতে ধানের চারা বসানো হয়েছে। এই জমির একটা বড় অংশই অবশ্য উত্তরবঙ্গের। জুন থেকেই উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়ে চলেছে। ফলে উত্তরে লক্ষ্যমাত্রার ৮০  শতাংশের বেশি জমিতেই রোপণ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তবে ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখার অনুকূল অবস্থানের কারণে মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। এবার পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে আশাবাদী কৃষিদপ্তরের কর্তারা। দিন দশেক আগেও রাজ্যে মাত্র সাড়ে ৫ লক্ষ হেক্টর জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছিল। পরপর কয়েকদিন নিয়মিত হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে থাকায় জুলাই মাসের শেষে এক ধাক্কায় ধান রোপণ অনেকটাই বেড়েছে।  


    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে জুলাই মাসে সার্বিকভাবে বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ২০ শতাংশ। জুন মাস থেকে ধরলে এই ঘাটতি ৪২ শতাংশ। নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় জুলাইয়ে এই ঘাটতি ৩০-৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। সবথেকে বেশি বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে নদীয়া জেলায় (৪৩ শতাংশ), যা অন্যতম কৃষিপ্রধান এলাকা। উত্তরবঙ্গের মধ্যে কেবল উত্তর দিনাজপুর জেলায় জুলাই মাসে ৩৯ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি আছে। 


    বুধবার বিধানসভার অধিবেশনে কম বৃষ্টিতে ধান চাষের ক্ষতির প্রসঙ্গটি ওঠে। লাভপুরের বিধায়ক অভিজিত সিনহা বিধানসভার উল্লেখ পর্বে তাঁর জেলায় কম বৃষ্টিপাতের ফলে ধান চাষ কমে যাওয়ার বিষয় পরিসংখ্যান সহ তুলে ধরেন। কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় ধান চাষে তার প্রভাব পড়েছে। বীরভূম, নদীয়া, দুই ২৪ পরগনা জেলায় চাষের সমস্যা বেশি হয়েছে। আমরা আশা করছি, ১৫ আগস্টের মধ্যে ভারী বৃষ্টি হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা যদি না হয়, সমস্যা বাড়বে।’ রাজ্যের কৃষি অধিকর্তা আশুতোষ মণ্ডল জানিয়েছেন, ভালো ফলনের স্বার্থে সাধারণত ১৫ আগস্টের মধ্যে চাষিদের ধানের চারা রোপণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে সব জায়গায় ধানের বীজতলা তৈরি হয়ে গিয়েছে। গত ক’দিনের বৃষ্টিতে বেশিরভাগ জায়গায় রোপণের জমিও প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। এখন বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লেই চাষিরা পূর্ণ উদ্যমে চারা রোপণ শুরু করে দেবেন। তবে কৃষিদপ্তর সূত্রে বলা হচ্ছে,  গত কয়েক বছর ধরেই দেরিতে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। এই প্রবণতা লক্ষ্য করে চাষিদের একটা বড় অংশ ১৫ আগস্টের পর, এমনকী সেপ্টেম্বরেও ধানের চারা রোপণ করছেন। এতটা দেরিতে রোপণের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত কিছু পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হয় কৃষকদের। 
  • Link to this news (বর্তমান)