• আজ অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা ভাসতে পারে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গ
    বর্তমান | ০১ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণবঙ্গে খাতায়কলমে বর্ষা ঢুকেছে মাস দেড়েক আগে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের মানুষের কাছে বর্ষার সেই ঘনঘোর রূপ অধরাই ছিল। অবশেষে এই অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া দপ্তর। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর ঘূর্ণাবর্তের উপস্থিতি ও মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থানের কারণে আজ, বৃহস্পতিবার কলকাতা, হাওড়া সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। আজ অতি ভারী বৃষ্টির ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে হুগলি, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জন্য। বুধবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। কাল, শুক্রবার কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের মাত্রা কমবে। তবে এদিনও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পুরুলিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে হাল্কা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত চলবে  বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। কোনও জায়গায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৭০ থেকে ১১০ মিমি (মিলিমিটার) বৃষ্টি হলে আবহাওয়াগত বিচারে ভারী বৃষ্টিপাত বলে ধরা হয়। ২০০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টি হলে তা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে গণ্য হয়। আজ-কালের বৃষ্টিতে কলকাতা সহ জেলগেুলির নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়া, দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা নিয়ে আগাম সতর্ক করে দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ভাসতে পারে কলকাতা সহ জেলার বিভিন্ন এলাকা। 


    চলতি মরশুমে জুনের শেষদিকে একবারই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি হয়েছিল। তারপর থেকে  কলকাতায় ভারী বৃষ্টি হয়নি। তবে গত কয়েকদিন হাল্কা কিন্তু নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে জুলাইয়ে কলকাতায় বৃষ্টির ঘাটতি কিছুটা কমেছে। জুলাই মাসে বৃষ্টিপাতের দীর্ঘকালীন গড়ের নিরিখে এবার কলকাতায় ১৫ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ প্রায় ৩২০ মিমি। ঘাটতি ১৯ শতাংশের নীচে থাকায় তা জুলাইয়ের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বলেই জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।


    আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, ঝাড়খণ্ডের উপর থাকা ঘূর্ণাবর্তটি বুধবার গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপরে সরে এসেছে। বাংলাদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত থাকলেও সেটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঘূর্ণাবর্তের অবস্থানের পাশাপাশি মৌসুমি অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। রাজস্থান থেকে মৌসুমি অক্ষরেখাটি বুধবার উত্তর ভারত, বিহার, দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া হয়ে সাগরদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। জোড়া অনুকূল পরিস্থিতির প্রভাবে বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে বৃষ্টির মাত্রা বেড়েছে। দক্ষিণবঙ্গের আকাশ এদিন দিনভর কালো মেঘে ঢেকেছিল। বৃষ্টি হয়েছে দফায় দফায়। কখনও মুষলধারে, কখনও ঝিরঝিরে। 


    বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই পর্বের ভারী বৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গের কোথাও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কার  কথা জানায়নি আবহাওয়া দপ্তর। বরং তারা বলেছে, এই সময় দক্ষিণবঙ্গে বেশি বৃষ্টিপাত চাষবাসের জন্য খুব প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, বর্ষার মরশুমে বঙ্গোপসাগরে অনেকগুলি নিম্নচাপ তৈরি হয়। এবার এখনও পর্যন্ত নিম্নচাপের সংখ্যা তুলনামূলক কম। যে ক’টি নিম্নচাপ দানা বেঁধেছিল, তার মধ্যে একটি ছাড়া বাকিগুলি ওড়িশা-অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে মধ্য ভারতের দিকে চলে গিয়েছে। ফলে দেশের ওই অঞ্চলে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট কোনও নিম্নচাপ পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে এলে দক্ষিণবঙ্গে বেশি বৃষ্টি হয়ে থাকে। বর্ষার বাকি দু‌’মাসের মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতেই পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।  
  • Link to this news (বর্তমান)