সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: ঝালদার তুলিনে খেলার মাঠ দখলে বহিরাগতকে সাহায্য করার অভিযোগে চারজনকে সামাজিক বয়কটের ডাক দিল ‘মাঠ বাঁচাও কমিটি’। ওই চারজনের মধ্যে দু’জন তৃণমূল কংগ্রেসের এবং একজন কংগ্রেস নেতা। মাইকিং ও সভা করে তাঁদের বয়কটের কথা ঘোষণা করেন কমিটির সদস্যরা। যদিও ওই কমিটির এক্তিয়ার ও আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বয়কট হওয়া নেতারা।
ঝালদার তুলিন এলাকায় থাকা ইউনাইটেড ফুটবল গ্রাউন্ড ঘিরে বিতর্ক যেন শেষ হচ্ছে না। গত রবিবার ওই মাঠের দখল ঘিরে ধুন্ধুমার বেধে যায়। ঝালদা-১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা তৃণমূল নেতা শেখ সুলেমান জোর করে খেলার মাঠের জমি দখল করছেন বলে অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। জমি দখল করতে বাধা দিলে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের মারধরেরও অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে সুলেমান দাবি করেন, বৈধভাবে তাঁর কেনা জমি দখল করতে গেলে কয়েকজন বাধা দিচ্ছে। রবিবারের ওই ঘটনার সময় স্থানীয় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতাকে দেখা যায়। আবার শেখ সুলেমানের পক্ষেও কয়েকজন নেতা ছিলেন বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। মঙ্গলবার এনিয়ে তুলিনে ওই মাঠেই স্থানীয়দের একটি বৈঠক হয়। দলমত নির্বিশেষে বহু মানুষ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই সামাজিক বয়কটের কথা ঘোষণা করা হয়।
খেলার মাঠ বাঁচাও কমিটির অন্যতম সদস্য যজ্ঞেশ্বর মাহাত বলেন, ১০০ বছরের পুরনো এই মাঠ বাঁচাতে কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই মাঠের যারা শত্রু তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে। রাজীবকুমার সাহু, সন্তোষ চেল, বিপ্রদাস মাহাত সহ মোট চারজনকে সামাজিক বয়কটের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এরা টাকা কামানোর জন্য তুলিনের সর্বজনের এই মাঠ অন্যের হাতে তুলে দিতে চাইছে। ষড়যন্ত্র করছে। আগামী দিনে এলাকার মহিলা, পুরুষদের নিয়ে বড় আকারের প্রতিবাদ মিছিল ও সভা হবে। মাঠ বাঁচাও কমিটির আরএক সদস্য বিনয়কুমার গোস্বামী বলেন, কিছু জমি মাফিয়া মাঠ দখল করার চেষ্টা করছে। তুলিন অঞ্চল, মারু মসিনা অঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ মাঠ বাঁচানোর এই লড়াইয়ে শামিল হয়েছে। ওই চারজনকে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দোকানে জিনিসপত্র কেনা থেকে শুরু করে সেলুনে চুল দাড়ি কাটানো কোনও কিছুতেই যেন এলাকার মানুষ তাঁদের সহযোগিতা না করেন। রাজীবকুমার সাহু, সন্তোষ চেল জানান, তাঁদের কাছে এবিষয়ে কোনও কিছু জানতে চাওয়া হয়নি। নিজেদের মনগড়া মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও আইনগত বৈধতা তাদের নেই। নিজেদের আইনগত বা গণতান্ত্রিক কোনও অধিকার খর্ব হলে আইনের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। শেখ সুলেমান বলেন, আইনের
উপর আস্থা রয়েছে। নিজের বৈধভাবে কেনা জমির দখল পেতে আইনের দ্বারস্থ হব। - নিজস্ব চিত্র