ল্যাবরেটরির রাসায়নিকে শুল্ক বাড়ল ১৫ গুণ, মাথায় হাত স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলির
বর্তমান | ০১ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণা খাতে কার্যকরী বরাদ্দ কেন্দ্রীয় বাজেটে কমেছে। বিভিন্ন অনুদানকারী সংস্থার বরাদ্দ বছর বছর কমানো হচ্ছে বা একই রেখে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলে সেগুলির গুরুত্বও কমছে। এবার ল্যাবরেটরির রাসায়নিকের কাস্টমস ডিউটি ১৫ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে তার আঁচ স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সরাসরি পড়বে। স্বাভাবিকভাবেই এ নিয়ে চিন্তায় বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা প্রশাসকরা। বিজ্ঞানচর্চা এ বিজ্ঞানমনস্কতা প্রসারের সংগঠন ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটিও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
যে কাস্টম ডিউটি আগে ছিল ১০ শতাংশ এবার তা বেড়ে হচ্ছে ১৫০ শতাংশ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বলেন, ‘এমনিতেই ইউজিসি এবং গবেষণায় অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার অনুদান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্কলারশিপের টাকাও পাচ্ছি না। রাজ্য সরকারের টাকায় কিছু স্কলারশিপ দেওয়া যাচ্ছে। এই অবস্থায় ল্যাবরেটরির রাসায়নিকের দাম বাড়ার ফলে সেটা কিন্তু অনেক বড় চাপ। কারণ যাদবপুরের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর পরিমাণে উন্নত মানের রাসায়নিক ব্যবহৃত হয় গবেষণার কাজে।’ দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গী বলেন, ‘কলেজগুলি বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে যে ফি নেয়, তা নামমাত্র। তবে তা কিছুটা পুষিয়ে যায় কলা বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের ফি থেকে। কারণ তাঁদের ক্ষেত্রে কলেজের খরচ কম। তবে এবার এই বাড়তি খরচ কলেজগুলি কীভাবে তুলবে সেটাই ভাবছি। আমাদের কলেজে বিভিন্ন বিষয়ের ল্যাবরেটরিতে প্রচুর কেমিক্যালস প্রয়োজন হয়। আবার যখন পাঁচ-ছ’টি কলেজের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার সিট পড়ে তখন রাসায়নিক খরচ আরও বেড়ে যায়।’ এই কলেজের কেমিস্ট্রি সহ অন্য বিভাগের নামডাক রয়েছে। যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে রাসায়নিকের প্রয়োজন হয়। যা দাম বাড়বে তাতে কয়েক হাজার টাকার বাড়তি বোঝা তৈরি হবে মনে হচ্ছে। সেটা ছাত্র-ছাত্রীদের উপর চাপানো তো সম্ভব নয়। বিকল্প সন্ধান করতে হবে।’ অনেকেই বলছেন, সারা দেশে মৌলিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে যে অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে, কেন্দ্রের এ ধরনের সিদ্ধান্তে তা আরও বাড়বে।