দফায় দফায় বৃষ্টিতে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আরামবাগ ব্যাহত জনজীবন
বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টিতে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আরামবাগে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়। বেশকিছু জায়গায় জল জমার ফলে বাসিন্দারা বিপাকে পড়েন। তবে এই বৃষ্টি আমন চাষের পক্ষে সহায়ক হবে বলে কৃষিবিদরা জানিয়েছেন।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বাঁকুড়ায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার বিকেল থেকেই আকাশের মুখ ছিল ভার। সকাল থেকে গোটা জেলাজুড়ে বৃষ্টি শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির বেগ বাড়ে। বাঁকুড়া শহরের কমরার মাঠ এলাকায় জল জমে যায়। বাঁকুড়া সদরের পাশাপাশি খাতড়া মহকুমার নিচু এলাকাতেও জল জমে। বৃষ্টির জেরে বিষ্ণুপুর মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যায়। এদিন বিষ্ণুপুর শহরের কলেজ রোড সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে জল জমে। যদিও পরে তা নেমে যায়। কোতুলপুরে বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় চাষের জমি প্লাবিত হয়। বিশেষ করে আমোদর খালের জল উপচে পড়ায় চাষিরা বিপাকে পড়েন। সদ্য রোয়া ধানের চারা জলের তোড়ে ভেসে যায়। কোতুলপুর শহরের নেতাজি মোড়ে প্রচুর জল জমে। সোনামুখী শহরেও বেশকিছু জায়গায় সাময়িকভাবে জল জমে যায়। পরে অবশ্য তা নেমে যায়। তবে এদিনের বৃষ্টি আমন ধানের পক্ষে সহায়ক হবে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
বৃষ্টির জেরে রঘুনাথপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপল্লি এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। নিকাশি নালা না থাকায় জল জমেছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। অল্প বৃষ্টিতে বাসিন্দাদের কার্যত গৃহবন্দি হতে হয় বলে অভিযোগ। পুরসভার তরফে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মানবাজার এলাকায় বৃষ্টির অভাবে আমন রোয়ার কাজ শুরু করা যাচ্ছিল না। এদিন বৃষ্টির ফলে চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। পুরুলিয়ার সহ কৃষি অধিকর্তা (তথ্য) সুশান্ত দত্ত বলেন, ১ জুন থেকে জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত জেলায় ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা। সেই জায়গায় হয়েছে মাত্র ৩৮২ মিলিমিটার। ফলে জেলায় এখনও বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে।