নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় ফের কালাজ্বর আক্রান্তের হদিশ মিলল। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত দু’জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁরা করিমপুর-২ ব্লকের বাসিন্দা। বিষয়টি সামনে আসতেই জেলা স্বাস্থ্য মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কারণ নদীয়া জেলা ২০১৮ সাল থেকে কালাজ্বর মুক্ত ছিল। তবে ২০২৩ সালে থেকে নদীয়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কালাজ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্ত রোগীর এলাকায় গেলে হেনস্তার মুখেও পড়তে হচ্ছে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। সম্প্রতি করিমপুরে কালাজ্বর আক্রান্ত এক রোগীর পরিবারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু রোগীর পরিবারের লোকজন স্বাস্থ্য কর্মীদের দেখতেই তাঁদের তিন ধনুক নিয়ে তাড়া করেছিলেন। এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। এর ফলে আগামী দিনে রোগের সংক্রমণ আটকানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও আশঙ্কাপ্রকাশ করছেন অনেকে।
নদীয়ার ডেপুটি সিএমওএইচ পরাশর পোদ্দার বলেন, এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। করিমপুরে যে দু’জন কালাজ্বর পজিটিভ হয়েছিলেন, তাঁদের পারিবারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের লোকজনকে সচেতন করা হয়েছে। যাঁর রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে গত বুধবার অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছিল, তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। ভয়ের কোনও কারণ নেই। আমরা গোটা এলাকাতেই নজরদারি চালাচ্ছি। প্রসঙ্গত করিমপুর-২ ব্লক আগে থেকেই অ্যানডেমিক ব্লক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কারণ এই ব্লকে অতীতে কালাজ্বর আক্রান্ত রোগীর হদিশ মিলেছিল। নিয়ম অনুযায়ী কোনও ব্লকে কালাজ্বরে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পেলে তাঁকে দশ বছরের জন্য অ্যানডেমিক ব্লক বলে চিহ্নিত করা হয়। নদীয়া জেলায় ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০টি এইরকম অ্যানডেমিক ব্লক ছিল। সেই তালিকায় ছিল হরিণঘাটা, রানাঘাট-২, শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর-১, নাকাশিপাড়া, তেহট্ট-১, তেহট্ট-২, করিমপুর-১, করিমপুর-২ ও কালীগঞ্জ। ২০১৮ সাল পর্যন্ত নদীয়া জেলায় ২২ জন কালাজ্বরে আক্রান্ত রোগী ছিলেন। তারপর ২০২৩ সালে হাঁসখালি ব্লকে একজন কালাজ্বর রোগীর খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। তারপর থেকে হাঁসখালি ব্লককেও অ্যানডেমিক ব্লকের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, করিমপুর-২ ব্লকের মুরুটিয়ার পাঁচ বছরের এক শিশু কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল। তার প্রথম রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তারপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই মতো চিকিৎসা চলে। ওই শিশুর দ্বিতীয় রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি করিমপুর-২ রহমতপুরের বছর ৩৫-এর এক মহিলার শরীরেও কালাজ্বরের অস্তিত্ব মেলে। সেইমতো জেলা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু এরই মধ্যে ওই মহিলার বোনের শরীরেও কালাজ্বরের কিছু উপসর্গ দেখতে পান স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। সেইমতো গত বুধবার সিএইচও, আশাকর্মী ও এএনএম রোগীর বাড়িতে তাঁর বোনের রক্ত নিতে যান। স্বাস্থ্যকর্মীদের দেখতেই পরিবারের লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। রক্ত পরীক্ষা করাতে চাননি তাঁরা। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা বোঝাতে গেলে পরিবারের লোকজন তাঁদের তির ধনুক নিয়ে তাড়া করেন। এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, বর্তমানে দু’জন রোগী সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। তবে তাঁদের একটি বিশেষ টেস্ট করাতে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি ওই এলাকায় আমরা মেডিক্যাল ক্যাম্প করব। বেলেমাছির কামড় দ্বারা এই রোগ বিস্তার লাভ করে।-নিজস্ব চিত্র