• ‘অ’-এ অজগর, ‘আ’-এ আতঙ্ক, আউশগ্রামে এক বছরে ৩২টি পাইথন উদ্ধার
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, কাটোয়া: ‘অ’-এ অজগর, ‘আ’-এ আউশগ্রাম। আউশগ্রামের জঙ্গলমহলের বাচ্চারা এখন এভাবেই ‘অআকখ’ শিখছে। কারণ আউশগ্রামে আতঙ্কের অপর নাম অজগর। সেখানকার জঙ্গলে বাড়ছে পাইথনের সংখ্যা। চুপিসাড়ে গৃহস্থের বাড়িতে হানা দিয়ে হাঁস, মুরগি গিলে খাচ্ছে বিশালাকার অজগর বা ময়াল সাপ। বর্ষায় দামোদরের ক্যানাল ও কুনুর নদীতে জল বাড়ছে। সেই জলস্রোতেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে পাইথন। গত এক বছরে আউশগ্রামে ৩২টি পাইথন উদ্ধার করেছে বনদপ্তর। তারা সেগুলি উদ্ধার করে আবার গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দিচ্ছে। আউশগ্রামের জঙ্গলে পাইথনের নির্দিষ্ট করিডর তৈরি হয়ে গিয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা। 


    আফ্রিকা ছাড়াও পাইথন বা অজগর এখন ভারতেও প্রচুর দেখা যায়। আউশগ্রামের জঙ্গলে পাইথনের সংখ্যা রীতিমতো বাড়ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হাঁস, মুরগি, ছাগলের সন্ধানে লোকালয়ে এসে গৃহস্থের বাড়িতে চুপিসাড়ে ঢুকে পড়ছে বিশালাকার ময়াল সাপ বা পাইথন। এসব দেখে বাসিন্দাদের শিরদাঁড়া বেয়ে ভয়ের ঠান্ডা স্রোত নামছে। আউশগ্রামে যেসব পাইথন দেখা যাচ্ছে তার বেশির ভাগই ৭ থেকে ৮ ফুট লম্বা। ওজন প্রায় ১০ থেকে ১২ কেজি। 


    বনদপ্তরের দাবি, আউশগ্রামে পাইথনের করিডর হয়ে গিয়েছে। বাগড়াই ক্যানাল ও কুনুর নদী ধরে পাইথন আসছে। রামচন্দ্রপুর, পূর্বতটি, প্রতাপপুর এসব গ্রামগুলিই পাইথনের মূল রুট। এমনকী আলেফনগর গ্রামেও পাইথন হানা দিচ্ছে। এরা জলাশয় থেকে গ্রামে ঢুকছে রোদ পোহানোর জন্য আর শিকারের সন্ধানে। 


    বনদপ্তরের আউশগ্রাম বিটের অফিসার হিমাংশু মণ্ডল বলেন, আউশগ্রামে পাইথন বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ ডিভিসির ক্যানালের জল আর কুনুর নদী। বাগড়াই ক্যানাল পাড়ে পাইথন বেশি দেখা যায়। বাগড়াই ‘পাইথন জোন’-এ পরিণত হয়েছে। কয়েকদিন আগে বাঁশঝাড়ের ডগায় পাইথন উঠে বসেছিল। আমরা বাঁশ কেটে নামিয়েছি। মূলত হাঁস মুরগির লোভেই বিশালাকার পাইথন আসছে। মানুষ ভয় পেয়ে যাচ্ছে। আমরা রাত হলেও খবর পেলেই পাইথন উদ্ধার করে আবার গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে আসি। 


    প্রসঙ্গত, ১৭ জুলাই আলেফনগরে ও ৩০ জুলাই পূর্বতটী গ্রামে পাইথন হানা দিয়েছিল। আউশগ্রামের বাসিন্দা নরেন মান্ডি, শিবু হাঁসদা বলেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা দেখলেই ভয় পেয়ে যাচ্ছে। আমাদেরও আতঙ্কে থাকতে হয়। জঙ্গলে পাতা কুড়োতে যেতেও ভয় লাগে। বাড়িতে হাঁস মুরগির ঘরের ভিতরে কখন যে অজগর ঢুকে ঘাপটি মেরে থাকছে তা বুঝতে পারছি না। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পাইথন পেঁচিয়ে শিকার ধরে গিলে ফেলে। তাই গ্রামাঞ্চলের মানুষকে সাবধানেই থাকতে হবে। তবে আউশগ্রামে পাইথনের কারণে বড় ধরনের বিপদের খবর নেই এখনও।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)