• মেডিক্যালের চত্বরে দখলমুক্ত অভিযান
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কয়েক দশক পর বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বর যানজট মুক্ত হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার পুরসভা ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ওই এলাকা থেকে জবরদখলকারীদের সরিয়ে দেয়। নার্স কোয়ার্টার থেকে হাসপাতাল চত্বর পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশ পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় থাকা শাসক দলের শ্রমিক সংগঠনের অফিস না সরানোয় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে সেটি দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুরকর্তৃপক্ষ। এদিন দুপুর থেকে বিশাল পুলিস বাহিনী নিয়ে প্রশাসন অভিযানে নামে। চেয়ারম্যান পরেশ সরকার, মহকুমা শাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস সহ অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। নার্স কোয়ার্টার এলাকায় অভিযান চালানোর সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, নেতারাই দোকান বসিয়েছিলেন। এখন সেগুলি সরিয়ে দেওয়া হলে তাঁরা যাবেন কোথায়? প্রশাসন অবশ্য পিছু না হটে বুলডোজার চালাতে থাকে। 


    মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বর থেকে জবরদখলকারীদের সরিয়ে দেওয়ায় রোগীর পরিবারের লোকজন খুশি। এদিন মঙ্গলকোট থেকে হাসপাতালে আত্মীয়ের চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন অর্ণব দত্ত। তিনি বলেন,  বহু বছর ধরে হাসপাতাল চত্বরে যানজট দেখে আসছি। রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ঢোকায় সমস্যা হতো। দোকানগুলি সরিয়ে দিয়ে পুরকর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরএক রোগীর আত্মীয় বলেন, জবরদখল হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের সামনের রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তার উপর রাস্তার পাশে সারি সারি টোটো দাঁড়িয়ে থাকত। যাতায়াত করা যন্ত্রণাদায়ক হয়ে গিয়েছিল। এবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পাওয়া যাবে।


    দোকানদারদের অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রশাসন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের পার্টিঅফিস ভাঙার সাহস দেখায়নি। সবার ক্ষেত্রেই একই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। চেয়ারম্যান বলেন, দু-একদিনের মধ্যেই সব সরিয়ে দেওয়া হবে। ফুটপাত দখল করে থাকা দোকান বা প্রতিষ্ঠানগুলি সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাইকে প্রচার করা হয়েছিল। অনেকেই তা সরিয়ে নিয়েছিলেন। যেসব দোকান সরানো হয়নি, সেগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 


    পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আগস্ট মাসজুড়ে জবরদখলকারীদের সরানোর জন্য অভিযান চলবে। কবে কোন এলাকায় অভিযান চালানো হবে, তা নিয়ে আগে থেকে মাইকে প্রচার করা হচ্ছে। এর আগেও প্রশাসন শহরের অন্যান্য প্রান্তে অভিযান চালিয়েছিল। জবরদখলকারীদের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা দোকান বসার জন্য টাকা নিয়েছিল। তারা প্লট করে জমি বিক্রি করেছে। উচ্ছেদের সময় সেই নেতারা পাশে দাঁড়ায়নি। এক দোকান মালিক বলেন, পাঁচ বছর ধরে ফাস্টফুডের দোকান করে সংসার চালাচ্ছি। বিকল্প ব্যবস্থা করে দোকান সরানো যেত। তা করা হল না। কয়েক দিনের নোটিসে দোকান ভেঙে দেওয়া হল। এখন আমরা যাব কোথায়? অনেকে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে পারবে না। বাড়িতে অনেকে অসুস্থ রয়েছে। তাঁদের ওষুধের টাকা আসবে কোথা থেকে?


    তবে, জবরদখলকারীদের সরিয়ে দেওয়ায় খুশি স্থায়ী দোকানদাররা। তাঁরা বলেন, আমরা প্রতি মাসে অনেক টাকা ভাড়া দিয়ে দোকান চালাই। অথচ আমাদের সামনেই অনেকে বিনা ভাড়ায় দোকান চালাচ্ছেন। মানুষ তাঁদের দোকানেই বেশি ভিড় করে। এর আগে কেউ জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে এমন কড়া পদক্ষেপ করার সাহস দেখায়নি। তবে, এটা যেন বজায় থাকে।
  • Link to this news (বর্তমান)