মেদিনীপুরের অধ্যাপকের নেতৃত্বে গবেষণা, ৩৪টি নতুন রেডিও গ্যালাক্সির খোঁজ
বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল খোঁজ দিলেন ৩৪টি নতুন দৈত্যাকার রেডিও গ্যালাক্সির। এই জ্যোতির্বিজ্ঞানী দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন মেদিনীপুর সিটি কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সব্যসাচী পাল। তাঁর এই সাফল্যে খুশি শহরের বিজ্ঞানপ্রেমী মানুষ।
সব্যসাচীবাবু বলেন, মহাবিশ্বের এই দানবাকার রেডিও গ্যালাক্সিগুলো কয়েক লক্ষ আলোকবর্ষজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। যা পরপর ২০-২৫টি মিল্কিওয়েবকে সারিবদ্ধ করার সমতুল্য। তাদের সুবিশাল আকার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও একটি ধাঁধাঁ। এই দানবাকার রেডিও গ্যালাক্সিগুলির কেন্দ্রস্থলে রয়েছে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল। যার ভর সাধারণত সূর্যের ১০ মিলিয়ন থেকে এক বিলিয়ন গুণ। বিজ্ঞানী সব্যসাচীবাবুর সঙ্গে ভারতীয় দলে ছিলেন পুরুলিয়ার সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুশান্তকুমার মণ্ডল ছাড়াও মেদিনীপুর সিটি কলেজের দুই গবেষক-ছাত্র সৌভিক মানিক ও নিতাই ভুক্তা। জানা গিয়েছে, এই আবিষ্কারের কথা ইতিমধ্যেই আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল সাপ্লিমেন্ট সিরিজে প্রকাশিত হয়েছে। রেডিও গ্যালাক্সির বিবর্তন, গ্যালাক্টিক ডায়ানামিক্স ও ইন্টারগ্যালাক্টিক মিডিয়াম সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়ার জন্য এই ধরনের গবেষণা আদর্শ।
সব্যসাচীবাবু আরও বলেন, ভারতের পুনে শহর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার উত্তরে খোদাদ গ্রামের কাছে অবস্থিত ৩০টি বিশেষ রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বেতার তরঙ্গে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করা হয়। বৃহদাকার প্রতিটি টেলিস্কোপের ব্যাস ছিল প্রায় ৪৫ মিটার। সকলের সহযোগিতা ছাড়া এই আবিষ্কার সম্ভব ছিল না। (ছবি- অধ্যাপক সব্যসাচী পাল।)