নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বাল্য বিবাহ রুখতে এবার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কাজে লাগাতে চাইছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। জেলাজুড়েই নাবালিকাদের বিয়ের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগেই তারা গর্ভবতীও হয়ে পড়ছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই, সচেতনতামূলক প্রচারে জোর দিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে কাজে লাগানোর ভাবনা প্রশাসনের। রীতিমতো ট্রেনিং দিয়ে গোষ্ঠীর মহিলাদের কাজে লাগানো হবে। নিজ নিজ এলাকাতেই তাঁরা নজরদারি চালাবে। কোথাও কোনও নাবালিকার বিয়ে হলে তা রুখে দেওয়াই হবে তাঁদের লক্ষ্য।
অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) নীতু শুক্লা বলেন, নাবালিকা বিয়ে ও নাবালিকা প্রসূতি— দুই বিষয়েই আমরা খুবই চিন্তিত। যে কোনও প্রসূতি মৃত্যুর পর আমরা উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করি। কিন্তু কেন নাবালিকা বিয়ে বন্ধ হচ্ছে না ও নাবালিকারা প্রসূতি মা হয়ে উঠছে, তা নিয়ে এবার ভাবতে হবে। এবার থেকে প্রশাসনের প্রত্যেক ট্রেনিং সেমিনারে এই নিয়ে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সেখানে সংঘ, মহাসংঘের মহিলারা এই সম্পর্কে জানতে পারবেন। তারপর এলাকায় তাঁরাও প্রচার চালাতে পারবেন। নাবালিকা বিয়ে হলে কী কী সমস্যা হয়, তা একেবারে গ্রামীণস্তর পর্যন্ত মানুষজনকে তাঁরা যাতে বোঝাতে পারেন, তারজন্য এই ভাবনা।
জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে রাজ্যের নিরিখে নাবালিকা প্রসূতির সংখ্যা বীরভূমে সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত সাড়ে ১০ হাজার নাবালিকা প্রসূতি হয়েছেন। তার মানে এটা স্পষ্ট, নাবাবিলাদের বিয়ের হারও বেড়েছে। তাতেই কপালে ভাঁজ পড়েছে প্রশাসনিক কর্তাদের। বুধবারও সিউড়ি থানার একটি গ্রামে গিয়ে এক নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করে পুলিস-প্রশাসন। মেয়ের পরিবারের তরফ থেকে মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হয় ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেওয়া হবে না বলে। প্রতিশ্রুতি না মানলে এফআইআর করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বীরভূমে বাল্য বিবাহ রুখতে চুক্তিভিত্তিতে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করে। তা সত্ত্বেও নাবালিকাদের বিয়ে ঠেকানো যাচ্ছে না। বিষয়টি বেশ ভাবাচ্ছে সব মহলকে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, সচেতনতামূলক প্রচারে কি কোথাও খামতি থাকছে? পাশাপাশি পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকার কারণেও নাবালিকা বিয়ের সংখ্যা বাড়ছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। তাই এবার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে মাঠে নামাতে চাইছে জেলা প্রশাসন।